রাজ্যকে এড়িয়ে নির্বাচন কমিশন সাত এইআরও-কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে কি রাজ্য সরকারের কোনও কর্মীকে সরাসরি কমিশন শাস্তি দিতে পারে? মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই একই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনকে 'ওয়ান পার্টি, ওয়ান তুঘলকি কমিশন' বলে তোপ দাগেন তিনি। এদিকে, কমিশনের নির্দেশমতো রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ওই চারজনের মধ্যে দুই ইআরও (ডব্লিউবিসিএস এগজিকিউটিভ অফিসার) এবং বাকি দু'জন এইআরও।
মমতা বলেন, "বিএলও , ডিএম, ইআরওদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করছে কমিশন। দিল্লির জমিদারদের কথায় চলছে তুঘলকি কমিশন। রাজনীতির নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।"
তাঁর কথায়, "বিএলও , ডিএম, ইআরওদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করছে কমিশন। দিল্লির জমিদারদের কথায় চলছে তুঘলকি কমিশন। রাজনীতির নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।" কমিশনের কাছে মমতার আর্জি, "গণতন্ত্র মেনে কাজ করুন।" আরও একবার বিজেপি ও কমিশনের আঁতাঁতের অভিযোগ তোলেন মমতা। মমতার আরও তোপ, "গায়ে নেই কম্বল, কবিতার ভাষায় ভোম্বল, এটা একটা প্রবাদ, আমি বানালাম এক্ষুনি।"
মমতার আরও তোপ, "গায়ে নেই কম্বল, কবিতার ভাষায় ভোম্বল, এটা একটা প্রবাদ, আমি বানালাম এক্ষুনি"
উল্লেখ্য, রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ৭ জন এইআরও-র সাসপেনশন ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সিইও দপ্তর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, সব কাজই নিয়ম মেনেই হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়ম মেনেই হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “লাগামছাড়া ক্ষমতা কাউকেই দেওয়া হয়নি। এইআরও-দের সাসপেন্ড করা হয়েছে আইন মেনেই।’’ তিনি জানান, যে ৭ জন এইআরও-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা এসআইআর গাইডলাইন লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই একমাত্র রাজ্য সরকার এই ৭ জনের সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে পারে। অন্য কোনও পদ্ধতি নেই।
একই সঙ্গে কমিশন আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য, যেখানে সরাসরি সাসপেনশনের নির্দেশ দিয়েছে। বিএলও থেকে শুরু করে ইআরও সবস্তরেই নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সাফাই, সাময়িক বরখাস্ত সাত আধিকারিককে অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন মাইক্রো অবজার্ভার ও অবজার্ভার। কিন্তু এঁরা সতর্কবার্তা না শুনে অনিয়ম অব্যাহত রেখেছিলেন। তাই কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এই মর্মে মমতার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, "যাঁদের ডিমোশন করবে, তাঁদের আমরা প্রোমোশন দেব।" এদিন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মমতা। শুধুমাত্র সৌজন্যের কথা মাথায় রেখে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেই জানান তিনি।
