বর্ধমান জেলার সংশোধনাগার থেকে নিজেই নিজের জামিনের মামলায় সওয়াল করবেন মাও নেতা অর্ণব দাম। জামিন মামলায় অর্ণবের আবেদন মঞ্জুর করে এমনই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে আদালত জানিয়েছে, আপাতত সশরীরে আদালতে আসতে পারবেন না তিনি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই মামলা লড়তে হবে তাকে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারী এই জামিন মামলার শুনানি হবে।
বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলায় মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর মাধ্যমে নিযুক্ত আইনজীবী অরিজিৎ বাগচি আদালতে তার তরফে আদালত বান্ধব হিসাবে আদালতের কাছে বিষয়টি পেশ করেন। অর্নব জানিয়েছেন, হাই কোর্টের আইনজীবীকে দেওয়ার মত টাকা তার নেই। লিগ্যাল এইডের সরকারি উকিল তিনি নিতে রাজি নন। তাঁর দাবি, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাপ্য স্কলারশিপ থেকে তাকে বঞ্চিত করেছে। জেলবন্দি হিসাবে কপর্দকশূন্য তিনি। তাই নিজের জামিনের জন্য জেল থেকে তাই নিজের হয়ে নিজেই সওয়াল করতে চান অর্ণব দাম। তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সিপিআই মাওবাদীর একটি গেরিলা স্কোয়াড হামলা চালিয়েছিল শিলদা স্বাস্থ্যকেন্দ্র লাগোয়া ইএফআর শিবিরে। ২৪ জন ইএফআর জওয়ানকে হত্যা করার পাশাপাশি, শিবির থেকে ইনসাস এবং অ্যাসল্ট কালাশনিকভ (একে) সিরিজের একাধিক আধুনিক রাইফেল, কার্বাইন-সহ প্রচুর অস্ত্রও লুট হয়েছিল সে দিন। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা খাটছেন অর্নব। জেল থেকেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন তিনি। আইনজীবী মহলের মতে, সাম্প্রতিককালে কোনও হাইপ্রোফাইল মামলা এরকম ঘটেছে বলে জানা নেই। নিজের সওয়ালে জামিন আদায় হলে বড় ঐতিহাসিক ঘটনা হবে সেটা।
