ছাব্বিশের ভোটের আগে 'বিদ্রোহী' তরুণ কমরেডকে নিয়ে হইহই কাণ্ড বঙ্গ রাজনীতিতে। বঙ্গ সিপিএমের কার্যকলাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে তিনি দলের সদস্যপদ ছাড়তে চেয়ে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। সেই চিঠি আবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এসব নিয়ে আলিমুদ্দিনের অন্দরে অশান্তি যখন তীব্র, সেই সময়েই কলকাতার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে 'গো ব্যাক' স্লোগান শুনতে হয়েছে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে কলার খোসা দেখিয়ে গাড়ির কাচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। এহেন আচরণে ব্যাপক ট্রোলড হতে হয় লাল পার্টির বর্ষীয়ান নেতাকে। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনিয়ে মুখ খুললেন মহম্মদ সেলিম। তবে দিলেন দায়সারা উত্তর।
শুক্রবারই শেষ হয়েছে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দু'দিনের সম্মেলন। তারপর আলিমুদ্দিন থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মহম্মদ সেলিম। স্বভাবতই কলার খোসা বিতর্কে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। জবাবে সেলিম বলেন, "আমি কলা খেয়ে খোসাটা ফেলতে গিয়েছিলাম, যাতে কেউ পিছলে না পড়ে। লাঞ্চ করার সময় পাইনি বলে তখন কলা খেয়েছিলাম, খোসাটা ফেলে দিচ্ছিলাম। আর কেউ কেউ লিখছে সেলিম কলা দেখাচ্ছে।'' কিন্তু ওইদিন প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবেই তো কলার খোসা দেখিয়েছিলেন। তাতে তো অনেকেই বলছিলেন, প্রতীক উরকে দল ব্যবহার করে এখন খোসার মতো বাদের তালিকায় ফেলে দিচ্ছে। এই দুয়ের মধ্যে যোগ কী? এ প্রশ্নের জবাব অবশ্য এড়িয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। নিতান্ত সচেতনতাবশতই তিনি কলার খোসা ফেলে দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন।
জবাবে সেলিম বলেন, "আমি কলা খেয়ে খোসাটা ফেলতে গিয়েছিলাম, যাতে কেউ পিছলে না পড়ে। লাঞ্চ করার সময় পাইনি বলে তখন কলা খেয়েছিলাম, খোসাটা ফেলে দিচ্ছিলাম। আর কেউ কেউ লিখছে সেলিম কলা দেখাচ্ছে।''
যদিও ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ মোটেই এমন সরল ছিল না। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েও মহম্মদ সেলিম সেখানে বক্তব্য রাখতে পারেননি ছাত্র বিক্ষোভের জেরে। সোজা বেরিয়ে গাড়িতে ওঠেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। সেসময় সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরে প্রশ্ন করায় বলেছিলেন, ''এই প্রথম আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাম। এর আগে দু,তিনবার অবশ্য যাদবপুরে গিয়েছি। আমি শিক্ষা থেকে দূরে থাকি।'' আর প্রতীক উরকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, কোনও রাজনৈতিক কথা বলব না। এরপরই সাংবাদিকদের দিকে কলার খোসা দেখিয়ে গাড়ির কাচ তুলে চলে যান। ফলে কলা খেয়ে খোসা ফেলতে যাচ্ছিলেন বলে যে সহজসরল ভাষ্য তৈরির চেষ্টা করলেন সেলিম, তা নিতান্তই হাস্যকর।
