যুদ্ধের আবহে কুমোরটুলিতে বিদেশের প্রতিমার বরাত আসছে কম। অনেকে আবার বায়না করেও পিছিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশে পুজোর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমেরিকা, লন্ডন, রাশিয়ায়ও ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। এখন দুবাই, শারজার মতো মুসলিম দেশগুলিতেও ধুমধাম করে দুর্গাপুজো করছেন প্রবাসী বাঙালিরা। কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে গিয়ে বিদেশে পুজো হয়। এবার পুজো অক্টোবরে মাঝে পড়েছে। বছরের শুরুতেই কুমোরটুলিতে প্রবাসের প্রতিমার বায়না চলে আসে। ইরানের সঙ্গে ইজারায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের জেরে এই বরাত হঠাৎ করে কমে গিয়েছে।
শিল্পী কৌশিক ঘোষ মূলত বিদেশের জন্য প্রতিমা তৈরি করেন। তিনি বলেন, "বরাত যে একেবারে আসছে না, তা নয়। তবে আগের তুলনায় অনেক কম। এখনও পর্যন্ত ১৪-১৫টি বরাত পেয়েছি। তবে আমেরিকা, ইউরোপের মতো দেশ থেকে কম বরাত এসেছে। যুদ্ধের জেরে অনেকেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ সময় চাইছেন। যুদ্ধের জেরে প্রতিমার বায়না করেও পিছিয়ে গিয়েছেন দুবাইয়ের প্রবাসী বাঙালিরা।" কুমোরটুলির আরেক শিল্পী প্রশান্ত পাল বলেন, "দুবাই থেকে একটি প্রতিমার বায়না নিয়ে চুড়ান্ত কথাবার্তা হয়ে গিয়েছিল। দুবাইয়ে যেখানে বোমাবর্ষণ হয়েছিল, ঠিক সেই চত্বর থেকে বরাতটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের আবহে সেই বায়না এখন স্থগিত করা হয়েছে। একইভাবে আমেরিকা থেকেও বায়না কম আসছে।"
কুমোরটুলি থেকে আইসল্যান্ড গেল প্রতিমা। নিজস্ব চিত্র
যুদ্ধের আগে দুবাই, কাতার থেকে বায়না চলে এসেছে মিন্টু পালের কাছে। তিনি বলেন, "যুদ্ধ শুরুর আগে আমেরিকা-সহ দুবাই, কাতার এইসব দেশ থেকে প্রতিমার বায়না হয়ে গিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত কেউ অর্ডার বাতিল করেননি বা স্থগিত করতে বলেননি।" যুদ্ধের আবহে ইতিমধ্যে কিছু প্রতিমা বিদেশ পাড়ি দিয়েছে। সোমবারই আইসল্যান্ডের জন্য রওনা দিয়েছে প্রশান্ত পালের প্রতিমা। কৌশিক ঘোষের ৩টি প্রতিমা জাহাজে বিদেশে রওনা দিয়েছে। যুদ্ধের জেরে প্রতিমার যাত্রা খরচও অনেকটা বেড়েছে। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, প্রতিমা তৈরির খরচ বাড়েনি। কিন্তু প্রতিমা পাঠাতে যে খরচ হত, সেই ব্যয়ভার বেড়েছে।
