মেসি কাণ্ডে প্রবল অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। আগামী কাল, সোমবারই তাঁকে তলব করেছে বিধাননগর পুলিশ। সেই আবহে এবার গুরুতর অভিযোগ তুললেন বাংলার পর্বতারোহী মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী পিয়ালি বসাক। ‘এভারেস্ট দুর্নীতি’ হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তৃণমূল সরকারের আমলে পর্বতারোহন অভিযানে যে তাবু-স্লিপিং ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল, তাও নিম্নমানের! সেই অভিযোগ সামনে আসতেই রীতিমতো হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে।
রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল আমলের একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে তৃণমূল নেতা-প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়কদের বিরুদ্ধে। বহু নেতা-কর্মী গ্রেপ্তারও হয়েছেন ইতিমধ্যে। এবার তৎকালীন যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও মন্ত্রকের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ তুললেন পিয়ালি বসাক। পর্বতে ওঠার সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছিল! হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা পিয়ালি জানান, পর্বতারোহন ক্ষেত্রেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। আর এর মাথায় রয়েছেন খোদ অরূপ বিশ্বাস!
পিয়ালির মারাত্মক অভিযোগ, "মাত্র ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় গিয়েই ৫ জনের ফ্রস্টবাইট হয়। তাঁদের পায়ের ও হাতের সব আঙুল বাদ দিতে হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস তখন সামলাতেন এই বিভাগ।"
পিয়ালি অভিযোগ করেন, "২০১৮ সালে রাজ্য সরকার একটি অভিযানের আয়োজন করে। পর্বত আরোহীদের যাবতীয় জিনিস সরকারই দিয়েছিল। ১০ জন ছেলেকে তাঁরাই সিলেক্ট করেছিল। তৃণমূল সরকারের তরফে যে তাবু-স্লিপিং ব্যাগ দেওয়া হয়েছিল সব নিম্নমানের।" পিয়ালির মারাত্মক অভিযোগ, "মাত্র ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় গিয়েই ৫ জনের ফ্রস্টবাইট হয়। তাঁদের পায়ের ও হাতের সব আঙুল বাদ দিতে হয়েছে। অরূপ বিশ্বাস তখন সামলাতেন এই বিভাগ। পর্বতারোহীদের নিয়ে যে কমিটি তৈরি হয়েছিল তাতে ছিলেন-দেবদাস নন্দী, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত, দেবরাজ দত্ত, উজ্জ্বল রায়।"
পিয়ালি এরপর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, "পাহাড়ে তো অনেকে মারা যান। যেমন- ছন্দা গায়েন, দীপঙ্কর ঘোষ, গৌতম ঘোষ, পরেশ নাথ, সুভাষ নাথদের মতো মানুষদের আমরা হারিয়েছি। এদের মৃতদেহ খুঁজতে রাজ্য সরকার এক-একজন পিছু ২ কোটি টাকা দিয়েছিল। অথচ নেপালের এজেন্সি বলল টাকা পাইনি। সেই টাকা কোথায় গেল?" অরূপ বিশ্বাসকে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানালেও তিনি সেসব কানে তোলেননি! মন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তাঁকে বার করে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। পিয়ালির আরও অভিযোগ, "২০১৯ সালে এভারেস্ট সামিটের সময় একজন শেরপা আমায় মেরেছে। ওই কমিটির লোকজন শেরপাকে টাকা খাইয়ে ২৮ হাজার ফুট উচ্চতায় আমায় মেরেছে। যাতে না আমার এভারেস্ট সামিট হয়। আমার জিনিস-পত্র ওই শেরপা বিদেশিদের দিয়ে দিত। এরপরও চূড়ায় পৌঁছে গিয়েছি আমি।"
