shono
Advertisement
Prasanta Barman

‘ভয় পাই না’, খুনের মামলায় ফেরার বিডিও প্রশান্তকে পাকড়াও করা শাকিলকে কুর্নিশ নেটিজেনদের

খুনের মামলায় গা-ঢাকা দেওয়া বিডিও প্রশান্তকে ধরেছিলেন হাতেনাতে, অভিযুক্তের জামিনে বিস্মিত সেই শাকিল।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 05:03 PM May 27, 2026Updated: 06:58 PM May 27, 2026

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগ মাথায় নিয়ে এতদিন ফেরার ছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সোমবার রাতে সেই বিডিওর বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারী গুরুতর আহত হন। তখন হাতেনাতে তাঁকে যিনি ধরে ফেলেছিলেন, তিনি ট্রাফিক পুলিশ বা আইনের কেউ নন। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় পড়তে আসা যুবক শাকিল আহমেদই অসাধ্য সাধন করে ফেলেছিলেন। ফেসবুল লাইভ করে তিনিই ধাওয়া করে আটকান প্রশান্ত বর্মনকে ()। পুলিশের হাতে তুলে দেন। কিন্তু আদালতে সময়মতো তাঁর বিরুদ্ধে নথি না পৌঁছনোয় মঙ্গলবার রাতে প্রশান্ত জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। এই খবরে যারপরনাই বিস্মিত শাকিল। তবে এও জানিয়েছেন, ‘‘মৃত্যুকে ভয় পাই না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করব। আগামী দিনেও এ ধরনের প্রতিবাদ জারি থাকবে।”

Advertisement

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সেই শাকিল আহমেদের কাজ ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে ৮ থেকে ৮০ সকলে। এই প্রতিবাদে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রভাবশালী বিডিওর তত্ত্বে প্রতিবাদকারী শাকিলকে ফাঁসানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে পাত্তা দিতে নারাজ খোদ শাকিল। তিনি বলছেন, “বিডিওর চোখ রাঙানিকে পাত্তা দিচ্ছি না। আমি মৃত্যুকেও ভয় পাই না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করব। আগামী দিনেও এ ধরনের প্রতিবাদ জারি থাকবে।” 

প্রশান্ত বর্মনকে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত গত অক্টোবরে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের বাসিন্দা সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা অপহরণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম। পরে মামলার জেরে বিডিও পদ থেকে অপসারিত হন তিনি। তারপর থেকে এই ৭ মাস ধরে তাঁর খোঁজ মিলছিল না। পুলিশ প্রশান্তর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করে। সোমবার রাতে হঠাৎ নিউটাউনের রাস্তায় মত্ত প্রশান্ত বর্মনের ‘দাদাগিরি’র ভিডিও সামনে এসেছে। যা রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। রাতের নিউটাউনে মত্ত অবস্থায় সিটি সেন্টার সংলগ্ন রাস্তায় বিলাসবহুল গাড়ি চালিয়ে এক বাইক চালককে ধাক্কা। গুরুতর জখম হন বাইকার। আহতের নাম মমতাজুল শেখ।

সেই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুর্শিদাবাদের যুবক শাকিল আহমেদ। তিনি গাড়ির চালককে দেখেই চিনতে পারেন এবং ফেসবুক লাইভ করে তাঁকে ধাওয়া করেন। হাতেনাতে ধরেও ফেলেন। শাকিলের সেই ভিডিও পোস্ট হতেই ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। লাইক, শেয়ার, কমেন্টে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শোনা যায়, শাকিলকে হুমকি, গালিগালাজ করছেন প্রশান্ত। এখানেই শেষ নয়। একটা সময় গাড়ি থেকে সটান নেমে প্রতিবাদকারী যুবককে চড়-থাপ্পড় মারার হুমকি এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন বিডিও। তাতেও চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদে অনড় ছিলেন মুর্শিদাবাদের বছর তিরিশের যুবক।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সেই শাকিল আহমেদের কাজ ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে ৮ থেকে ৮০ সকলে। এই প্রতিবাদে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রভাবশালী বিডিওর তত্ত্বে প্রতিবাদকারী শাকিলকে ফাঁসানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে পাত্তা দিতে নারাজ খোদ শাকিল। তিনি বলছেন, “বিডিওর চোখ রাঙানিকে পাত্তা দিচ্ছি না। আমি মৃত্যুকেও ভয় পাই না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করব। আগামী দিনেও এ ধরনের প্রতিবাদ জারি থাকবে।” পরে তিনি ফেসবুক পোস্ট করে শাকিল জানান, “যাঁরা পাশে ছিলেন এবং পাশে আছেন, আপনাদের সব্বাইকে ধন্যবাদ।”

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement