'সে যদি শ্রমিক নয়, শ্রম কাকে বলে?'— কবির এই অমোঘ পঙক্তিই যেন শুক্রবার সকালে মূর্ত হয়ে উঠল আলিপুর কমান্ড হাসপাতালের মোড়ে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এক অভিনব উদ্যোগ নিল নিউ আলিপুর কলেজ। কলেজের 'আইকিউএসি' এবং উইমেন্স সেল 'আনন্দিনী'-র যৌথ প্রচেষ্টায় সম্মান জানানো হল একদল লড়াকু নারীকে। তাঁরা কোনও কর্পোরেট অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসেন না, বরং তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে শহরের চাকা সচল রাখেন। তাঁরা হলেন আলিপুর পেট্রোল পাম্পের মহিলা কর্মী।
আলিপুর পেট্রোল পাম্পের মহিলা কর্মী।
সাধারণত পেট্রোল পাম্পের কাজকে পুরুষদের একাধিপত্যের ক্ষেত্র হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু কলকাতার হৃৎপিণ্ডে অবস্থিত এই পাম্পটি সম্পূর্ণভাবে মহিলারা পরিচালনা করেন। এখানে ৪০ জনেরও বেশি মহিলা কর্মী দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমে পেট্রোপণ্যের সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার কাজ সামলান। তাঁদের এই নিষ্ঠা ও লড়াইকে কুর্নিশ জানাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন নিউ আলিপুর কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা।
এই কর্মসূচির মূল কাণ্ডারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. জয়দীপ ষড়ঙ্গী। তাঁর সুচিন্তিত পরিকল্পনায় চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে সমাজের প্রান্তিক স্তরের শ্রমজীবী নারীদের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রয়াস এক বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। এদিন কলেজের পক্ষ থেকে মহিলা কর্মীদের হাতে ফুল, মিষ্টি এবং বিশেষ উপহার হিসেবে কলেজের ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। লড়াকু এই কর্মীদের মুখে তখন ছিল প্রাপ্তি আর সম্মানের হাসি।
কলেজের এই উদ্যোগে অভিভূত পাম্পের কর্মীরাও।
অধ্যক্ষ ড. ষড়ঙ্গী জানান, শিক্ষকতা বা ওকালতির মতো প্রথাগত পেশার বাইরেও নারীরা যে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন, তা সমাজের কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত। এই পরিশ্রমী নারীদের স্বীকৃতি দেওয়া মানেই লিঙ্গসাম্যের পথকে প্রশস্ত করা। কলেজের এই উদ্যোগে অভিভূত পাম্পের কর্মীরাও। তাঁরা জানান, এই ধরনের সম্মান তাঁদের কাজের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
লিঙ্গসাম্য ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নিউ আলিপুর কলেজ সারা বছরই নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে পেট্রোল পাম্পের মহিলা কর্মীদের সম্মান জানানোর এই ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী। ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও এই ধরনের সৃজনশীল ভাবনা অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। দিনশেষে এই উদ্যোগ কেবল একটি উৎসব পালন নয়, বরং শ্রমের মর্যাদা ও নারীশক্তির জয়গান হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকল।
