অভয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়াকে তৃণমূলের জমানায় দূরে বদলি করেছিল রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। তা নিয়ে নানামহলে ওঠে বিতর্কে ঝড়। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের বদলির নির্দেশ। তবে এবার আর দূরের জেলা নয়। কাছের জেলায় আনা হল তাঁদের। দেবাশিসকে (Debashis Haldar) মালদহের গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতাল থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালের অ্যানাস্থেসিওলজিতে আনা হল। অপর চিকিৎসক আসফাকুল্লা নাইয়াকে (Asfakullah Naiya) পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গর্ভনমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে হুগলির প্রফুল্লচন্দ্র সেন গর্ভনমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি অভয়া আন্দোলনে শামিল হওয়া প্রায় সকলেই।
দেবাশিস ও আসফাকুল্লার বদলির নোটিস
২০২৪ সালের আগস্ট। আর জি কর হাসপাতালে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের দেহ। অভিযোগ ওঠে, হাসপাতালের ভিতরেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে আছড়ে পড়ে আন্দোলনের ঢেউ। তাতেই একেবারে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেন দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়া, অনিকেত মাহাতোদের মতো জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারপর গঙ্গা দিয়ে জল বয়ে গিয়েছে অনেক। আর জি কর আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ২০২৫ সালের জুন মাসে অনিকেত, দেবাশিস, আসফাকুল্লার অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আন্দোলনের মুখ ছিলেন বলেই কি তাঁদের অন্যত্র বদলি করা হল? সেই প্রশ্নে ফের বিতর্ক ছড়ায়। তাঁরা কিছুতেই ওই বদলির সিদ্ধান্তে রাজি নন, জানিয়েছিলেন অনিকেতরা। সেই বদলির নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। অভিযোগ উঠেছিল, নিয়ম মেনে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া না মেনে এই পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। কোথায় নিয়োগ চান, সিনিয়র রেসিডেন্টদের কাছে সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই বিষয়টি তাঁরা জানিয়েওছিলেন। কিন্তু তারপরেও পছন্দের জায়গায় ওই তিনজন পোস্টিং পাননি! সেই নির্দেশের বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থও হন তাঁরা। যদিও হাই কোর্ট চিকিৎসক দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়ার পক্ষেই রায় দেয় আদালত। বদলির নির্দেশ বাতিল করে দেওয়া হয়। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের সিদ্ধান্ত ত্রুটিযুক্ত বলেই জানানো হয়। বাংলার সরকারের পালাবদলের পর দূরের জেলা থেকে কাছে আনা হল দেবাশিস ও আসফাকুল্লাকে।
