রক্ত সংগ্রহ হয়েছে রক্তদান শিবির থেকে। তারপর সেখান থেকে প্লাজমা বিক্রি হয়েছে বাইরে। বাংলার একাধিক ব্লাডব্যাঙ্ককে নিয়ে উঠেছে এমনই গুরুতর অভিযোগ। সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আনুমানিক চার কোটি টাকার প্লাজমা বিক্রি হয়েছে ভিনরাজ্যে। ১১টি ব্লাডব্যাঙ্ক আনুমানিক এই অঙ্কের প্লাজমা বিক্রি করেছে। আদৌ তার জন্য কতটা অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন প্লাজমার এত চাহিদা? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্লাজমা অর্থাৎ রক্তের তরল অংশ। রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশই প্লাজমা। এই প্লাজমায় জল ছাড়া থাকে প্রোটিন, ক্লটিং ফ্যাক্টর, অ্যান্টিবডি। কোনও গুরুতর দুর্ঘটনা অথবা প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে রোগীকে দেওয়া হয় ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা। লিভারের গুরুতর অসুখ সাড়াতেও প্রয়োজন হয় প্লাজমার। এমনকী বিরল অটোইমিউন রোগের চিকিৎসাতেই প্লাজমার প্রয়োজন। এই প্লাজমার আকাশছোঁয়া চাহিদা মাথায় রেখেই ভিনরাজ্য প্লাজমা পাচার করে ওইসব ব্লাডব্যাঙ্ক!
সোমবার হাজরার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্কে হানা দেয় স্বাস্থ্যভবনের টিম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে এমন অভিযান আরও চলবে। এর শেকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সাধারণত রাজ্যের মধ্যে রক্ত বিক্রি করতে হলে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল, ভিনরাজ্যে রক্ত বিক্রি করতে হলে ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল থেকে অনুমতি নিতে হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, সেই অনুমতি না নিয়ে রক্ত বাইরে পাচার করেছে ব্লাডব্যাঙ্কগুলি! সূত্রের খবর, সবচেয়ে বেশি প্লাজমা গিয়েছে পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে।
সন্দেহ রয়েছে রক্ত নষ্ট হওয়ারও। কারণ? প্লাজমার যত চাহিদা, ততটা চাহিদা নেই আরবিসি বা লোহিত রক্ত কণিকার। রক্তের ওই অংশ ফেলে দেওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, "আমরা সেটা নিয়েই চিন্তিত। রক্ত যেন কোথাও নষ্ট না হয়। যাঁরা রক্তদান করতে এগিয়ে আসছেন তাদের বলব, দয়া করে উপহার নেবেন না। দেখবেন আপনার রক্ত যেন সৎ পথে ব্যবহার হয়।’’
