ট্রেন থেকে নামা ভিনরাজ্যের যাত্রীদের টাকাপয়সা, সোনার গয়না কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখার নামে প্রতারণা। পর্দাফাঁস বিহারের মুজাফ্ফরপুর গ্যাংয়ের। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মুজাফফরপুর গ্যাংয়ের দুই সদস্য মিথিলেশ কুমার ও সনু কুমার মাহাতোকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাওড়া ময়দানের বঙ্কিম সেতুর তলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে হাওড়া থানার পুলিশ।
ঠিক কীভাবে প্রতারণা করত এরা? পুলিশ সূত্রে খবর, হাওড়া কিংবা শালিমার স্টেশনে ভিনরাজ্য থেকে আসা কোনও যাত্রী ট্রেন থেকে নামলেই এই গ্যাংয়ের সদস্যরা তাঁদের কাছে চলে যেত। যেমন মুজফফরপুর থেকে কোনও যাত্রী এলে তাঁদের এরা বলতো আমরাও মুজফফরপুরের বাসিন্দা। এই বলে প্রথমে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতো। তারপর তাদের টাকাপয়সা, সোনাগয়না ও মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিত। কোনও আত্মীয় বা বন্ধু টিটিই আছে যাদের হেফাজতে মূল্যবান জিনিসগুলি রাখলে সেগুলি সুরক্ষিত থাকবে। এই বলে শালিমার স্টেশন চত্বর কিংবা হাওড়া ময়দানে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো চালান কেটে জিনিসপত্রগুলি টিটির হেফাজতে রাখবে বলে ভুয়ো টিটির অফিস দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে সেই জিনিসগুলি নিয়ে নিত। তারপর সেগুলি নিয়ে চম্পট দিত।
কলকাতায় কাজে আসা ভিনরাজ্যের যাত্রীদের অধিকাংশই এই কথায় বিশ্বাস করে তাঁদের মূল্যবান জিনিস ওই গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে তুলে দিত। কারণ, অনেক যাত্রীই কলকাতায় কাজে এসে নিজেদের মূল্যবান জিনিস সুরক্ষিত রাখা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ভোগেন। তবে বিশ্বাস করলেই সর্বস্বান্ত। সব কিছু খোয়া যেত তাঁদের। হাওড়া থানায় গতবছর থেকেই এই বিষয়ে অনেকে অভিযোগ দায়ের হয়। অভিনব কায়দায় প্রতারণার এই অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে হাওড়া থানার পুলিশ। এরপর গত বছরই মুজাফ্ফরপুর থেকে এই গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অবশেষে বুধবার রাতেও হাওড়া থানা এলাকা থেকেও আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কিনা তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
