২৫ দিন ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা। ধাপে ধাপে হাতিয়ে নেওয়া হল ৫৩ লক্ষ টাকা। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় খুইয়ে মাথায় হাত পিকনিক গার্ডেনের বাসিন্দা, পেশায় শিক্ষক বিপুল সাহার। ইতিমধ্যে কসবা থানায় ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি টাকাও।
'ডিজিটাল অ্যারেস্টে’র নাম করে প্রতারণা ক্রমশ মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠছে তদন্তকারীদের। কখনও সিবিআই, আবার কখনও ইডি কিংবা অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার নাম করে ফোন করার পর ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কখনও ভিডিও কল করে আবার কখনও ফোন করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্তরাই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সাইবার প্রতারণার থেকে বাঁচতে সরকার, পুলিশের তরফে লাগাতার সচেতনতা মূলক প্রচারও করা হচ্ছে। এরপরেই ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
যেমনটা ঘটেছে বিপুলবাবুর সঙ্গেও। ২৫ দিন ধরে নিজের বাড়ির মধ্যেই 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' হয়ে থাকতে হল তাঁকে। জানা গিয়েছে, গতবছর অর্থাৎ ২ ডিসেম্বর বিপুল সাহাকে এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই ফোন করেন। যেখানে বলা হয়, তিনি নাকি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। যা শুনে রীতিমতো চমকে ওঠেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও ফোনের ওপার থেকে জানানো হয়। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিপুলবাবু। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
এরপর ২ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতারণা করে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' করে রাখা হয় বিপুল সাহাকে। এই সময়ে এক মুহূর্তের জন্যেও বুঝতে পারেননি যে তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ৫৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলে প্রতারকরা তাঁকে জানান। আর সেই ফাঁদে পা দিতেই ঘটে যায় বিপদ। প্রতারকদের কথা মতো নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ৫৩ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীকালে বোঝানে যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরেই কসবা থানায় ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পিকনিক গার্ডেনের বাসিন্দা বিপুল সাহা।
