রাত পোহালেই এক বিশেষ দিন। ঘরে ঘরে দুই বন্দনা! এক পুজোয় অঞ্জলি, আর এক বন্দনায় শ্রদ্ধাঞ্জলি। দুই ক্ষেত্রেই হলুদ গাঁদা ফুল অপরিহার্য। গাঁদা মালায় সাজানো হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের ছবি, আর সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি শুরু হলে কচি কচিদের হাত ভরে উঠবে গাঁদা ফুলে। এর মধ্যেই রয়েছে বিয়ের লগন! সব মিলিয়ে 'ত্রি ফলায়' আজ বৃহস্পতিবার রাজ্যে ফুলের দাম বেশ চড়া। ফলে ফুল কিনতে গিয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপে রীতিমতো নাজেহাল সাধারণ ক্রেতারা।
রাজ্যের বৃহত্তম ফুলবাজার কলকাতার মল্লিকঘাট। সেখানেই আজ বৃহস্পতিবার লাল গাঁদা ফুলের ঝুরো বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা, হলুদ গাঁদা ১০০ টাকা, চিনা গাঁদা ৮০ টাকা কেজি দরে। শুধু মল্লিকঘাট নয়, প্রায় ছোট বড় সব ফুলবাজারগুলিতেই এদিন এমন দামেই গাঁদা ফুলের ঝুরো বিক্রি হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিন ফুট লম্বা সাইজের কুড়ি পিস লাল গাঁদা ফুলের মালা ৪৫০ টাকা, হলুদ গাঁদা ফুলের মালা ৫৫০ টাকা, চিনা গাঁদা ফুলের ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে সাদা চেরি ফুল বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা কেজি দরে।
এখানেই শেষ নয়, বৃহস্পতিবার এক একটি গোড়ে চেরি ফুলের মালা বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা। গোলাপ ফুল প্রতি পিস বিক্রি হয়েছে ৪-৫ টাকা দরে। রজনীগন্ধার কেজি পিছু দাম ছিল ৩০০ টাকা, দোপাটি ২০০ টাকা, অপরাজিতা ৫০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে পদ্ম প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পলাশ বিক্রি হয়েছে ২,৫০০ টাকা কেজি দরে। শুক্রবার পুজো। সকাল থেকেই বাকদেবীর আরাধনা শুরু। তার আগে স্থানীয় খুচরো বাজারে ফুল কিনতে গিয়ে পকেটে কিছুটা হলেও টান পড়বে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
সারা বাংলা ফুলচাষী ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, ''এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবারে ফুলের ফলন ভালো হয়েছে। অন্যদিকে একসঙ্গে সরস্বতী পুজা, ২৩ শে জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন, ২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস এবং ২৩ ও ২৪ শে জানুয়ারি বিয়ের লগন থাকার কারণে ফুলের নাম অনেকটাই চড়া।'' তবে অন্যান্য বছর সরস্বতী পুজোর সময় ফুলের যে দাম থাকে তার থেকে খুব বেশি এবার চড়া ছিল না বলেই জানিয়েছেন নারায়ণ চন্দ্র নায়ক।
