রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থাকলে এসআইআরে তাঁকেও হয়তো নোটিস পাঠাত। এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র খোঁচা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। এসআইআরের শুনানিতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে নিত্যদিন অভিযোগ উঠছে। বৈধ ভোটার বাদ দিতে নির্বাচন কমিশন ব্ল্যাক ম্যাজিক করছে! সেই অভিযোগও তুললেন মমতা।
এসআইআরের (SIR in West Bengal) খসড়া তালিকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। শুনানিতে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। আতঙ্কে নাগরিকদের মৃত্যুর অভিযোগও উঠছে। এই সব কিছু নিয়েই নির্বাচন কমিশনকে তীব্র দোষারোপ করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন করেছেন, ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম কোথা থেকে বাদ গেল? নাম বাদ যাওয়ার তালিকায় কারা রয়েছেন?
এসআইআরের শুনানিতে (SIR Hearing) নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ডাকা হয়েছে। দিন কয়েক আগে সেই কথা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই বিষয়ে আগেই ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতার কটাক্ষ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থাকলে তাঁকেও হয়তো নোটিশ পাঠাত। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যোগসাজস রয়েছে বলে ফের নিশানা করলেন মমতা (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম কোথা থেকে বাদ হল? কাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তালিকায় কারা রয়েছেন, কিছুই কমিশন জানাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
বেছে বেছে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। মমতার কথায়, "যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে, বলছে ইআরও বাদ দিয়েছে। অথচ ইআরও জানে না। যার নাম প্রথম পর্যায়ে ডিলিট করা হয়েছে তাদের ফর্ম ৬, ৭ ফিলাপের অধিকার আছে। যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নামের ডেটা কাউকে দেওয়া হয়নি।" মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "বাংলার বিষয়ে সব সরকারি সার্টিফিকেট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। কার নির্দেশে? বিহারে তো হয়নি। দুর্যোধন-দুঃশাসন এভাবে বাংলা জয় হবে না। ক্ষমতা থাকলে লড়াই কর। বাংলাকে তোমরা লুঠ করছ। বলছ ঝুট। যেখানে যেখানে আনঅথরাইজড পেপার আর বাল্কে পেপার পাবেন সেখানে সেখানে এফআইআর করবে।"
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, "বাংলার বিষয়ে সব সরকারি সার্টিফিকেট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। কার নির্দেশে? বিহারে তো হয়নি। দুর্যোধন-দুঃশাসন এভাবে বাংলা জয় হবে না। ক্ষমতা থাকলে লড়াই কর।"
তিনি আরও বলেন, "আশা করি যারা জেনুইন ভোটার, তাঁদের নাম বাদ যাবে না। বিহারে ফাইনাল লিস্ট বের করে আপনারা ভোটের দিন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। ভোট এলে উদ্বোধন। ভোটের পর সব শেষ। কী উদ্বোধন করছেন?" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি চাই মতুয়ারা ভোট দিক। এজন্য তাঁদের লেখাতে হবে না যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আর ওই ক্যা-র কোনও ভ্যালু নেই। আমি বলব, বিএলও অফিসে গিয়ে নাম লেখান মতুয়ারা।"
