২৯৪ আসনে একা লড়াই সহজ হবে কিনা পরের প্রশ্ন। দলের মত শুনে নেতৃত্বের অন্তত এটুকু বিশ্বাস জন্মাল যে সিপিএম নির্ভরতা কমছে প্রদেশ কংগ্রেসের। প্রার্থী নিয়ে মতামত চেয়ে সোমবার জেলা সভাপতিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। যা জানা গিয়েছে, তাতে প্রায় প্রত্যেকেই একা লড়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করেছে। দুটি জেলার সভাপতি কিছুটা ভিন্ন পথে চলা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছেন। একজন মত দিয়েছেন, জোটে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। তবু যদি ভাবা হয়, তবে সিপিএমকে নিয়ে ভাবা যেতে পারে। আরেকজন উলটোটা। তিনিও একইভাবে একলা চলার পক্ষপাতী। তবে পরিস্থিতি তেমন তৈরি হলে তৃণমূলের পক্ষে কিছুটা যাওয়ার ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
এআইসিসি নেতৃত্বকে কলকাতায় এনে ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বড় সমাবেশ করাতে চাইছে প্রদেশ কংগ্রেস। তাতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আসার সম্ভাবনা অনেকটাই চূড়ান্ত। সঙ্গে আর কাউকে আনা যায় কিনা, সমাবেশের প্রস্তুতি কীভাবে করা যায় এসব নিয়েই জেলা সভাপতিদের মত চাইতে গিয়ে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আনার দাবি সামনে এসেছে। তা নিয়ে এআইসিসির কাছে তদ্বিরও শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৮ জানুয়ারি শহিদ মিনারে সমাবেশের প্রস্তাব ছিল। তবে হাইকমান্ড সময় আরও পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানানোয় তা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নেতাজি ইন্ডোরে করার কথা ভাবা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই বিধানসভা পিছু ৩ জন করে প্রার্থীর নাম জানতে চেয়েছেন শুভঙ্কর। তবে জেলা সভাপতিরা যা তালিকা দিয়েছেন, তার পরও অনেকেই বিধান ভবনে দলের সদর দপ্তরে এসে প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডাটা দিয়ে যাচ্ছেন।
এআইসিসি নেতৃত্বকে কলকাতায় এনে ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বড় সমাবেশ করাতে চাইছে প্রদেশ কংগ্রেস। তাতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আসার সম্ভাবনা অনেকটাই চূড়ান্ত।
এর প্রেক্ষিতেই জোট নিয়ে জেলা সভাপতিদের মত জানতে চান প্রদেশ সভাপতি। মুর্শিদাবাদ জেলা এই বৈঠকে অংশই নেয়নি। বাকি সকলেরই মত, ‘১০ বছর হয়ে গেল, সেই ২০১৬ থেকে চলছে। এবার নিজেদের পায় দাঁড়ানোর সময় এসেছে। হারি-জিতি, মার খাই, একাই লড়ব। তাতে সব কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী তো থাকবে। নিজেদের অবস্থাটা বোঝা যাবে।’ পৃথকভাবে সকলে মত দেওয়ার সময়ই সূত্রের খবর, বর্ধমান শিল্পাঞ্চলের সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর প্রস্তাব, যদি জোট করতেই হয় তাহলে সিপিএমের সঙ্গেই যাওয়া ভাল।
একইভাবে তৃণমূলের কথা তুলেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা টাউনের সভাপতি মহম্মদ মোক্তার। এছাড়া গোটা উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের মত ‘একলা চলো’। এক নেতার কথায়, “হাইকমান্ড এবার ভোট বা জোট সংক্রান্ত প্রস্তাব, দলের স্ট্র্যাটেজি কী হওয়া উচিৎ, এসব নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে বলেছে একেবারে তৃণমূলস্তরে। সেই কারণেই জেলা থেকে ব্লক সকলের মত নিয়ে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে।”
