কখনও স্নেহা, কখনও বা ঋতুপর্ণা। আবার কখনও বা পূজা বা শ্রাবন্তী। বিভিন্ন নাম নিয়ে অনলাইনে ব্ল্যাকমেল এক মহিলার। শুধু হুমকি দিয়েই এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল ‘ফেসবুক বান্ধবী’। এই ব্যাপারে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। অন্তত ৬ জন মহিলার নাম করে টাকা হাতানো হলেও পুলিশের ধারণা অভিযুক্ত একজনই।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের আগস্টে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় স্নেহা নামে এক মহিলার। অনলাইনে বন্ধুত্ব চলাকালীন ওই মহিলা নিজের আধার কার্ড তাঁকে পাঠায়, যেখানে তার নাম রয়েছে অভিপর্ণা। ওই মহিলা হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে। প্রথমে মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ চ্যাটও করতেন ওই ব্যক্তি। পাঠাতেন কিছু ছবিও। ক্রমে স্নেহা তথা অভিপর্ণা তার মায়ের ওষুধ, গৃহস্থালী জিনিস কেনার নাম করে টাকা চাইতে শুরু করে। তিনি টাকা না পাঠালে মেডিক্যালের বিল পাঠিয়ে টাকা দাবি করতে থাকে।
এর পর স্নেহা তথা অভিপর্ণা ওই ব্যক্তিকে জানায়, তারই এক সঙ্গিনী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সেই সূত্রে ঋতুপর্ণা নামে এক মহিলা ওই ব্যক্তির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ করে। এবার ঋতুপর্ণা পরিচয় দেওয়া মহিলা স্নেহাকে পাঠানো চ্যাট ও ছবি দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে। টাকা না দিলে তাঁর বাড়িতে স্নেহা তথা অভিপর্ণাকে পাঠিয়ে তাঁকে হেনস্তা করবে বলে হুমকি দেয়। আবার একই সঙ্গে স্নেহা তাঁর কাছ থেকে ফোনে সাহায্য চায়। এর মধ্যেই ঋতুপর্ণা ওই ব্যক্তিকে বলে, স্নেহা পড়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তার চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। ‘প্রমাণ’ হিসাবে রক্তমাখা মেঝের ছবি পাঠায়। হুমকি দিয়ে বলে, যদি স্নেহার মৃত্যু হয়, তার দেহ তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এর পরও অনামিকা, পূজা, শ্রাবন্তীর নাম করেও তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হয়। তিনি আতঙ্কেই দফায় দফায় অনলাইনে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। ফের তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়। তখনই পুলিশের কাছে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। একাধিক মোবাইল নম্বর ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে ওই মহিলার সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
