পুজোর আগে শহরের সমস্ত বেহাল পিচ রাস্তা সংস্কার ও রং করা নিয়ে বিভিন্ন বরোতে বুধবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দিনভর বৈঠক করলেন বিধায়করা। ছিলেন পুরসভার সমস্ত সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়র ও অফিসাররাও। মূলত পিচ রাস্তা ও সৌন্দর্যায়নের রং করা নিয়ে বৈঠক হলেও জঞ্জাল সাফাই, নিকাশি ও পার্ক-উদ্যানের নানা সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অনেক বরোর বৈঠকে অ্যাজেন্ডার বাইরের নাগরিক সমস্যা নিয়েই দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে।
এদিনের বরোর বৈঠকগুলিতে শাসক ও বিরোধী উভয়পক্ষের বিধায়করা যেমন অংশ নেন তেমনই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বা কালীঘাটপন্থী প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটরা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিজের কেন্দ্রের সমস্যা সমাধানের পথে হেঁটেছেন। দক্ষিণে দুই বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ও শর্বরী মুখোপাধ্যায় বরো ১০, ১১ ও ১২ নম্বরে, উত্তরে রীতেশ তিওয়ারি, বিজয় ওঝা যেমন অংশ নিয়েছেন তেমনই মঙ্গলবার একটি বরোর এমন বৈঠকে ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
পুজোর আগে অন্য বছরগুলিতে তিন মাস আগে রাস্তা ও রং নিয়ে বৈঠকের পরই কাজ শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এবছর পুজোর মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে এই বৈঠক হওয়ায় ইঞ্জিনিয়ররা কিছুটা দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। কারণ এখনও এত স্বল্প সময়ে প্রতিটি বরোর বিশাল সংখ্যক পিচ রাস্তা সংস্কার ও রং করা কার্যত অসম্ভব। সর্বোপরি পুরভবনের নির্দেশ মেনে ‘ডিপিআর’ তৈরি করে পাঠিয়ে টেন্ডার হওয়ার পর পিচ রাস্তায় কাজ করার জন্য কমপক্ষে দুমাস সময় প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পুরসভার সেই ‘ডায়েরি’ না মানায় ভোটের আগে ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের কাজ চলায় খরচ না হওয়া ‘মেইটেইনেন্স’-এর নামমাত্র টাকা দিয়ে পিচ রাস্তাগুলি সংস্কার করা হবে। স্বভাবতই বৈঠকে এদিন বরোর এক্সকিউটিভরা বৈঠকে আসা বিজেপি বিধায়কদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘‘সামগ্রিকভাবে পিচ রাস্তা সংস্কারে তৃণমূল পুরবোর্ডের রেখে যাওয়া টাকায় স্রেফ জোড়া-তাপ্পি দেওয়া যাবে। আগের মতো ভালোভাবে রাস্তা মেরামত করা সম্ভব নয়। ’’
