বয়স ভাঁড়ানোর অপরাধে স্পিনার রোহিত যাদবকে দু’বছরের নির্বাসনে পাঠিয়েছে সিএবি। এবার আরও বড়সড় ধাক্কা খেলেন তিনি। ভারতীয় বোর্ডও এবার রোহিতকে দু’বছরের নির্বাসনে পাঠিয়ে দিল! ভারতীয় বোর্ড সূত্রের খবর, রোহিতকে নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা হয়েছে। আগামী দু’বছর কোনও ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন না তিনি। দিনকয়েক আগে অনূর্ধ্ব উনিশ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অনূর্ধ্ব ভারতের টিমে রাখা হয়েছিল তাঁকে। ওয়ান ডে এবং মাল্টি ডে ফর্ম্যাটের টিমে। বর্তমানে পরিস্থিতি যা, তাতে একটা টিমেও আর খেলতে পারবেন না তিনি।
এখানে লিখে রাখা যাক, একবার নয়। রোহিতের আধার কার্ড হিস্ট্রি আপডেটে একাধিক বার জন্মসাল বদলানোর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তাঁর আধার কার্ড আপডেট হয়েছে সাত-সাত বার! ২০১৪ সালে প্রথম বার রোহিতের আধার কার্ড রেজিস্ট্রেশনের সময় তাঁর জন্মতারিখ ছিল ৭-৭-২০০৭। ঠিকানা ছিল, উত্তরপ্রদেশ। কিন্তু ২০১৭ সাল থেকে বারবার বাংলার হয়ে খেলা স্পিনারের কখনও জন্মসাল, কখনও বাসস্থান, ক্রমাগত বদলাতে থাকে। ২০১৭ সালে রোহিতের জন্মসাল ২০০৭-এর বদলে করে দেওয়া হয় ২০০৬। আবার ২০২১ সালে তাঁর জন্মসাল রাতারাতি ২০০৬ থেকে হয়ে যায় ২০০৯!
এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলাতে থাকে তাঁর বাসস্থান। প্রথম কয়েক বছর উত্তরপ্রদেশ থাকার পর, তা হয়ে যায় হাওড়া! বোর্ডের নির্দেশিকা পাওয়ার পর সিএবি যখন স্থানীয় ক্রিকেটারদের আধার কার্ড হিস্ট্রি আপডেট নিয়ে তদন্ত শুরু করে, সে সময়ই রোহিতের ব্যাপারটা ধরা পড়ে। কিন্তু ততদিনে রোহিত বাংলা থেকে ভারতের অনূর্ধ্ব উনিশ দলে নির্বাচিত হয়ে গিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা চলে গিয়েছেন খেলতে। শ্রীলঙ্কায় ভালো পারফর্ম করায়, তাঁকে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব উনিশ দলের বিরুদ্ধে দলে রাখা হয়। যার পর সিএবি থেকে ই মেল পাঠিয়ে বোর্ডকে জানানো হয় যে, সিএবি আভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে রোহিতের আধার কার্ড আপডেট হিস্ট্রিতে বিস্তর গরমিল পেয়েছে। নির্বাসিত করেছে। বোর্ডকে পুরো বিষয়টা জানিয়ে রাখা হল।
বোর্ড মারফত জানা গেল, সিএবির সেই ইমেল পাওয়ার পর নাকি রোহিতের কাছ থেকে সমস্ত নথি গত রাতে চেয়ে পাঠায় বোর্ড। এবং তারপর বোর্ডের তরফেও তাঁকে নির্বাসনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যা, তাতে এরপর আর বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট খেলতে পারবেন না রোহিত। তাঁকে এবার খেলতে হলে, খেলতে হবে রনজি ট্রফি।
