আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করেছিলেন। গড়েছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। আন্দোলনের নামে অভয়া ফান্ড গড়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকাও তুলেছিলেন বলেই অভিযোগ। তবে সে আন্দোলন এখন স্তিমিত। ফ্রন্টে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে ফাটল। আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো আগেই ফ্রন্ট থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আর এবার তাঁকে সংগঠন থেকে 'বিচ্ছিন্ন' বলে দাগিয়ে দিলেন ফ্রন্টের অন্যান্য সদস্যরা। সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করতে প্রয়োজনীয় ৩০ লক্ষ টাকা জোগাড়ে অনিকেতের ক্রাউড ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সুর চড়ান একসময়ের 'সহযোদ্ধা'রা।
বুধবার ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ফ্রন্টের সদস্যরা সাংবাদিক বৈঠক করেন। দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়া, অর্ণব মুখোপাধ্যায়রা সাফ জানান, অনিকেতকে বারবার ই-মেল করা হয়। দশদিনের মধ্যে ইস্তফার কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়। তা সত্ত্বেও তাঁর তরফ থেকে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর সঙ্গে আর কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। দেবাশিস আরও বলেন, "গত ৩১ ডিসেম্বর পদত্যাগ পত্র জমা দেন অনিকেত। ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জিবি ডাকা হয়। দুপুর ৩-৩.৩০ টে নাগাদ অনিকেত মাহাতো সোশাল মিডিয়ায় লাইভ করেন। আমরা ই-মেল পাঠাই। আমরা দেরি করে প্রেস কনফারেন্স করেছি। ভিতরে আলোচনা হচ্ছিল। সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সহযোদ্ধার সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। রাজপথে আমাদের দেখা যাবে না, এটা আমরা স্পষ্ট করলাম। তিনি আলোচনার জায়গা রাখেননি।"
পদত্যাগের পর সাংবাদিক বৈঠক করে সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ না নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন অনিকেত। তার জন্য ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল। যা জোগাড় করতে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জি জানান। তা নিয়ে দেবাশিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দেবাশিস বলেন, "তাঁর কিছু কাজ আমাদের নীতির বিরুদ্ধে গিয়েছে বলে মনে হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত বন্ডের জন্য ক্রাউড ফান্ডিং নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। সেটা ঠিক মনে হয়নি। আমরা এর দায় নিতে চাই না। এই যে টাকা তোলার দায়, এটা আমাদের নয়। এমনিতেই আমাদের টাকা তোলা নিয়ে শাসকদল বারবার সমালোচনা করেছে। এত মামলা চলেছে। অনিকেতের আইনি খরচ সংগঠন থেকে করা হয়েছে।" সংগঠনের নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলে অনিকেত অন্যান্যদের আঙুল তোলার সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।
অনিকেত বনাম জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের 'মতবিরোধে'র পর অনেকেরই প্রশ্ন, রোগীস্বার্থ, অভয়ার মৃত্যুর সুবিচারের মতো বড় অ্যাজেন্ডা নিয়ে যাঁরা লড়াই করছিলেন, তাঁদের কাছে ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষাই কি এখন সব? এ প্রশ্নের উত্তর যদিও অধরা।
