শক্তিশালী গণতন্ত্রে বরাবরই বিরোধীদের ভূমিকায় জোর দেওয়া হয়। বিরোধী স্বর কমে আসা কিংবা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাধারণ পাঠ থাকা মাত্র মানুষই তা জানেন। বিরোধীদের গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম অংশ তাঁদের যথাযথ আপ্যায়ণ। ক'জনই বা তেমন আপ্যায়ণ করতে পারেন? তবে সেই কাজ যে চেষ্টা করলেই করা যায়, তার সাম্প্রতিকতম নজির বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে বিরোধী দলকে যেভাবে তিনি আপ্যায়ণ করলেন, তাতে এতটাই আপ্লুত সকলে যে আগের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তুলনা টানতে শুরু করেছেন। মাছ-মাংস থেকে মিষ্টি, হরেক রকম পদে পাত সাজিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী, সেইসঙ্গে তাঁর আন্তরিকতা মুগ্ধ করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, আখরুজ্জামানদের। বলছেন, আপ্যায়ণে নাকি জ্যোতি বসু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সবাইকে হেলায় হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার দুপুর নাগাদ নবান্নে গিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মোট ১৩ বিধায়ক। তাঁদের রীতিমতো অতিথি আপ্যায়ণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী! সূত্রের খবর, নানা পদে পাত সাজিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। জবরদস্ত মেনু। ফিশরোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ, মিষ্টিসুখ, কুকিজ - কী না ছিল? সেইসঙ্গে চা, ব্ল্যাক কফিও।
এসআইআরের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার দুপুর নাগাদ নবান্নে গিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মোট ১৩ বিধায়ক। তাঁদের রীতিমতো অতিথি আপ্যায়ণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী! সূত্রের খবর, নানা পদে পাত সাজিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। জবরদস্ত মেনু। ফিশরোল, চিকেন স্প্রিং রোল, কালাকাঁদ, মিষ্টিসুখ, কুকিজ - কী না ছিল? সেইসঙ্গে চা, ব্ল্যাক কফিও। এসআইআর আলোচনা থেকে পেট পুরে খাওয়া, হলো সবই।
নবান্নে এদিনের ছবিটা মনে করিয়ে দিল প্রায় একযুগ আগে এমনই এক রাজনৈতিক বৈঠকের কথা। সালটা ২০১৪। তিনবছর আগে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে নবান্নে গিয়েছিলেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। বিমান বসু-সহ আরও অনেকে। তাঁদের সেবার ফিশফ্রাই আর কফি খাইয়েছিলেন মমতা। সেই ঘটনা পরে বঙ্গ রাজনীতিতে 'ফিশফ্রাই ডিপ্লোমেসি' বলে অ্যাখ্যায়িত হয়।
নবান্নে এদিনের ছবিটা মনে করিয়ে দিল প্রায় একযুগ আগে এমনই এক রাজনৈতিক বৈঠকের কথা। সালটা ২০১৪। তিনবছর আগে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে নবান্নে গিয়েছিলেন বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। বিমান বসু-সহ আরও অনেকে। তাঁদের সেবার ফিশফ্রাই আর কফি খাইয়েছিলেন মমতা। সেই ঘটনা পরে বঙ্গ রাজনীতিতে 'ফিশফ্রাই ডিপ্লোমেসি' বলে অ্যাখ্যায়িত হয়। সেই স্মৃতিই উসকে দিল আজ নবান্নে ঋতব্রতদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনা।
নবান্ন থেকে বেরিয়ে বিধানসভায় ফেরার পর শুভেন্দুর সেই আপ্যায়ণ নিয়ে গল্পে মশগুল ছিলেন বিরোধী বিধায়করা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে বসে ফিরহাদ হাকিমকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি তিনজন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছি। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এমন আপ্যায়ণ আগে কখনও পাইনি। শুনেছি বিধান রায় ছিলেন খুব অতিথি-পরায়ণ। কিন্তু আমি তো তাঁকে দেখিনি। আমি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে যা আপ্যায়ণ পেলাম, তাতে আপ্লুত।'' সবমিলিয়ে এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধীদের বৈঠক রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে হয়ে রইল সৌজন্যের নজির।
