বাংলার নয়া রাজ্যপাল হচ্ছেন আরএন রবি। তিনি বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। অতিরিক্ত দায়িত্বভার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হচ্ছেন সিবিআই ও আইবির এই প্রাক্তন কর্তা। ভোটের আগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অফিসারকে রাজ্যপাল হিসাবে নিয়ে আসা একাধিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। এ দিকে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের আগে কেন্দ্রের তরফে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তরফ থেকে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের বিষয়টি জেনেছেন।
কে এই আর এন রবি? ১৯৫২ সালের এপ্রিল মাসে বিহারের পাটনায় জন্ম। কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেছেন। তারপর ১৯৭৬ সালে ইউপিএসসি পাস করে আইপিএস হিসাবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর একে একে ভারত সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৪ সালে তাঁকে জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। তারপর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হন।
আইপিএস অফিসার হিসাবে অবসর নেওয়ার পর, ২০১৯ সালে তাঁকে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই রাজ্যের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার মাঝে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেঘালয়ের অতিরিক্ত রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হন। বর্তমানে তিনি সেই পদেই রয়েছেন। বাংলার সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করার পর দায়িত্ব পেলেন ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট ভারত সরকার ও ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড (NSCN-IM)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় নাগা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট। আরএন রবিকে সেই চুক্তির কাণ্ডারি বলে মনে করা হয়। একসময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি সেনাকে ব্যবহার করে বিরোধী আন্দোলন ধমিয়ে দিতে চাইছেন সঙ্গে এনএসসিএন-আইএমের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীগুলিকে মদত দিচ্ছেন। প্রবল চাপ তৈরি করে এনএসসিএন-আইএম। এদিকে বাংলাদেশ নির্বাচনের পর দেখা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় জামাতের উত্থান হয়েছে। এই সময়ে সময় তাঁকে বঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
