ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের এখনও পর্যন্ত বিচারাধীন কমবেশি ৫৬ লক্ষ ভোটার। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন এই সংখ্যাটা ৬০ লক্ষের কিছু বেশি ছিল। তবে গত কয়েকদিন তাঁদের নথিপত্র নিয়ে কাটাছেঁড়ার পর চার লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিপিএম-সহ একাধিক বিরোধী দলের দাবি, বিচারাধীন ভোটারদের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা স্থগিত থাকুক। বৃহস্পতিবার সিইও দপ্তরে এসব দাবিপত্র নিয়ে স্মারকলিপি জমা দিল বাম প্রতিনিধিদল। ছিলেন বিমান বসু-সহ ৬ জন। রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন তাঁরা। এদিন সেখানে যায় জোটসঙ্গী আইএসএফও। আবার অন্য কারণে কমিশনের দপ্তরে এসেছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ফলে একই জায়গায় দেখা গেল বিমান বসু, নওশাদ সিদ্দিকি, হুমায়ুন কবীরকে। আর তাতেই উসকে উঠল, অলিখিত কোনও জোট তৈরি হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে।
বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে ভোট হবে না। বারবার এই দাবি করে আসছিল সিপিএম-সহ বাংলার দলগুলি। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষের নাম বাদ এবং ৬০ লক্ষের বেশি বিচারাধীন দেখে সেই দাবি আরও জোরাল হয়েছে। বিচারাধীনদের নিষ্পত্তির পরই ভোট ঘোষণা হোক, এই দাবি তুলে সিইও অফিসে বুধবার ঢুকতে চেয়ে বাধা পান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। পুলিশের সঙ্গে বচসা বাঁধে। রাত থেকে ধরনা শুরু করেন সিপিএম কর্মী, সমর্থকরা। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে সিপিএমের এই ধরনায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়দের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন বামমনস্ক পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক, উপনির্বাচনে কালীগঞ্জে নিহত শিশুর মা সাবিনা ইয়াসমিনরাও। তাঁদের সকলের দাবি, যাঁদের নাম নিয়ে কমিশন সংশয় প্রকাশ করে 'আন্ডার অ্যাজুডিকেশন'-এ রাখা হয়েছে, সেসব ভোটারদের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা করা যাবে না। আর করলেও সন্দেহভাজনদেরও ভোটাধিকার দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সিইও দপ্তরের সামনে এই ধরনা চলছিল। ইতিমধ্যে নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ-ও কমিশনের কার্যালয়ের সামনে গেলে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। বিকেলে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর নেতৃত্বে ৬ প্রতিনিধি সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে যান, দাবিদাওয়া নিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। এরপরই ধরনা প্রত্যাহার করে নেন কর্মী, সমর্থকরা। এদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীরও এদিন কমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন। কথা না হলেও একই জায়গায় বিমান বসু, নওশাদ সিদ্দিকি, হুমায়ুন কবীরকে দেখে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
