পালাবদলের পর অনেকেই রাতারাতি বিজেপি হয়ে গিয়েছেন! কিন্তু তাঁদেরও এবার দিতে হবে অগ্নিপরীক্ষা। আর এই পরীক্ষা নেবে আরএসএস। আরএসএস শুরু করবে শুদ্ধিকরণ অভিযান। কারণ, দল এখন ক্ষমতায়। বেনোজল ঢুকেছে দলে। সকলেই বলছেন 'আমি বিজেপি'। দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনে তাঁরা মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিচুতলায় নেতাদের সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে স্বঘোষিত বিজেপি কর্মীদের। পার্টির শীর্ষস্তর থেকেও বারবার এই বেনোজল আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে কড়া বার্তাও। কিন্তু বুথ-মণ্ডল ও জেলাস্তরে সেই নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এবার ছাঁকনি নিয়ে নামতে হচ্ছে আরএসএসকেই। শুদ্ধিকরণ অভিযান হলে 'তৎকাল বিজেপি'-দের দাপট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, একেবারে নিচুতলা থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত সংগঠনের নিচুতলার রাশ হাতে রাখতে চাইছে আরএসএস। নেতৃত্ব ও পদ নেওয়ার জন্য যাঁরা উদগ্রীব তাঁদের উপর নজর রাখছে আরএসএস। আদি বিজেপি আর ফলপ্রকাশের পর হঠাৎ করে কারা বিজেপি হয়েছেন, সেই হিসাব আরএসএসের কাছে রয়েছে। দলে টিকে থাকতে হলে অনুশাসন বা শৃঙ্খলা মানতে হবে। আসল আর নকল বিজেপি ঝাড়াই-বাছাই করে নেবে আরএসএসের লোকজনই। নকল বিজেপি দলে ঢুকে থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তাই একেবারে বুথস্তর থেকে মণ্ডল এবং জেলা কমিটি নতুন করে গঠন হলে সেখানে কমিটিতে কারা থাকবেন তা আরএসএসের সবুজ সংকেতের উপরই নির্ভর করবে। অর্থাৎ জেলাস্তরে সমস্ত কমিটির রাশ আরএসএসের হাতেই থাকবে। পালাবদলের পর বিতর্কিত নেতাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শীঘ্র শুরু হয়ে যাবে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে অনেকেই বিজেপির স্বঘোষিত নেতা হয়ে উঠেছেন। আর এই তৎকালদের দাপটে যারা তৃণমূল আমলেও বিজেপির কমিটিতে থেকে দায়িত্ব নিয়ে দলের কাজ করছিলেন, তাঁদের অনেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। আর হঠাৎ করে বিজেপি হয়ে যাওয়া বড় অংশকে এই মুহূর্তে দূরে সরিয়েও দিতে পারছে না নেতৃত্ব। কিন্তু হঠাৎ করে বিজেপি হয়ে যাওয়ারা এলাকায় এমন কিছু কাজ করছেন, যা দলবিরোধী। দলীয় সূত্রে এমনটাই খবর। ফলে এই অংশকে বিজেপি থেকে যাতে দূরে রাখা যায় তাই ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে আরএসএস।
