২০২৬ সালের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, আইসিএসই, আইএসসি, সিবিএসই (দশম ও দ্বাদশ) এবং মাদ্রাসা পরীক্ষার ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা দিল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ বিশিষ্টরা। এদিন জাতীয় গান বন্দে মাতরম গেয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। কৃতীদের বৈদিক ভারতের ইতিহাস মনে করিয়ে রাষ্ট্রবাদের পাঠ দেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর কথায়, ভারত গোটা পৃথিবীকে প্রভাবিত করেছে। সরকার আসবে যাবে, কিন্তু বহুত্ববাদ থেকে যাবে।
শমীক জানান, তরুণ প্রজন্মের নিজের দেশ সম্পর্কে জানা উচিত। জাতীয়বাদের পাঠ দিতে গিয়ে ব্যকরণবিদ ও ভাষাতত্ত্ববিদ পাণিনি, কবি কালীদাস সহ বৈদিক যুগের একাধিক মহারথীর ইতিহাস মনে করিয়ে দেন তিনি। রাজ্যের বাঙালিদের তিনি মনে করিয়ে দেন, তাঁরা প্রথমে ভারতীয়, তারপর বাঙালি। তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারত গোটা পৃথিবীকে শিক্ষার আলো দেখিয়েছে। ব্যকরণের জন্ম হয়েছে এই ভারতেই। এই দেশেই বাইনোমিয়াল ক্যালকুলাস তৈরি হয়েছে। গোটা বিশ্বকে জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতি শিখিয়েছে ভারত। ইস্পাত তৈরির প্রাথমিক প্রক্রিয়া ওপেন-হার্ট প্রসেস ভারতেই প্রথম তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের একটি ছোটো গ্রামে এই প্রক্রিয়া হাজার বছর আগেই শুরু হয়েছে।
১৭৫০ থেকে ১৭৯০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিজ্ঞানী জেমস হোয়াইট রিডাকশন গিয়ার আবিষ্কার করেছিলেন। সাইকেল থেকে শুরু করে যে কোনও মেশিনে এই রিডাকশন গিয়ার ব্যবহৃত হয়। শমীক জানান, দক্ষিণ ভারতের মন্দিরে সেই রিডাকশন গিয়ারের চিত্র পাথরের মধ্যে খোদাই করা রয়েছে। অর্থাৎ কয়েক হাজার বছর আগে রিডাকশন গিয়ার ভারতের মাটিতেই তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও বিশ্বের মধ্যে ভারতই প্রথম বিবাহ পদ্ধতি চালু করেছে। শমীক আরও জানান, বইয়ের পাতার মধ্যে কোনও জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ভারতে সর্বশ্রেষ্ট আসনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকল কৃতী পড়ুয়াদের আহ্বান জানান তিনি।
