গরমের ছুটিতে বেড়ানোর প্ল্যান? চিরাচরিত পাহাড়-সমুদ্র ছেড়ে এবার তালিকায় রাখুন একেবারে অভিনব এক জায়গার নাম। এখানে মনোরম প্রকৃতির বুক জুড়ে জেগে রয়েছে অসামান্য স্থাপত্য। ভিন্নধর্মের আচার-নিয়ম জানতে আগ্রহী ব্যক্তিরাও বিশেষ প্রসন্ন হবেন এই জায়গায় পৌঁছে।
এই পাহাড়ে চড়তে পারলে প্রাকৃতিক শোভা কিংবা বনাঞ্চলের আগে, দেখতে মেলে অগণিত মন্দির! পাথরের গায়ে নিপুণ খোদাই করে তৈরি মন্দিরের সংখ্যা এখানে ৯০০-রও বেশি, জানাচ্ছে পরিসংখ্যান। আর তা দেখতে চাইলে ভারতের বাইরে পা রাখার প্রয়োজন পড়ে না। বরং চলে যেতে হবে গুজরাটের ভাবনগর জেলায়। সেখানকার পালিটানা শহরের নামই হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মন্দিরের শহর’। কারণ শহরের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে শত্রুঞ্জয় পাহাড় , যার সমগ্র উপরিতল জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে পাথুরে মন্দিরের (Shatrunjaya Hill Temple) সারি।
শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের মন্দির দর্শন করলে অপার পুণ্য অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়।
জৈন ধর্মের প্রধান তীর্থস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম পালিটানা। বিশ্বাস করা হয়, শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের এই মন্দির দর্শন করলে অপার পুণ্য অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়। এখানেই নাকি জ্ঞানালোকে আলোকিত হয়েছিলেন ২৪জন তীর্থঙ্করের ২৩জনই। তাঁদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে পৃথক মন্দির। এখানকার সবচাইতে উল্লেখযোগ্য মন্দিরগুলি হল, আদিনাথ মন্দির, চৌমুখ মন্দির, বিমল শাহ মন্দির প্রভৃতি। পাথরের অপরূপ নির্মাণ শৈলীর উদাহরণ প্রতিটি স্থাপত্যই। বলা বাহুল্য, পৃথিবীতে এমন দ্বিতীয়টি নেই।
তবে এই পাহাড় ঘিরেই প্রচলিত রয়েছে এক অদ্ভুত বিশ্বাস। সূর্য পাটে ঢলে পড়ার আগেই পাহাড় ছেড়ে নেমে আসতে হয় সকলকে, তা সে মন্দিরের পূজারি হোক বা পুণ্যার্থি। সূর্যাস্তের পর থমথমে নৈশব্দ গ্রাস করে সমগ্র পাহাড়টিকে।
কিন্তু কেন? স্থানীয় বিশ্বাস, এই পাহাড় আদতে ঈশ্বরের বাসস্থান। কেবলমাত্র ঈশ্বর এবং জৈন ধর্মগুরুরাই শয়ন করেন সেখানে। তাই সেখানে ঘুমানোর অধিকার নেই কারও, সে-ব্যক্তি সাধারণ দর্শনার্থী অথবা ঈশ্বরের সেবক, যেই হন না কেন!
স্থানীয় বিশ্বাস, এই পাহাড় আদতে ঈশ্বরের বাসস্থান।
কীভাবে যাবেন?
ভাবনগর বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার গেলেই পৌঁছানো যায় পালিটানা। পালিটানা রেল স্টেশনে নেমেও যাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ভাবনগর ও আহমেদাবাদ থেকে ভাড়ার গাড়িতে এখানে আসা যায়। রয়েছে দৈনন্দিন বাস ও ট্যাক্সি সার্ভিসও। তবে পালিটানা পৌঁছেই যে যাত্রা শেষ হয়, তেমনটা নয়।
প্রায় ৩৮০০ সিঁড়ি চড়ে শত্রুঞ্জয় পাহাড়ের উপর পৌঁছানো যায়। যারা এত পথ পায়ে হেঁটে চড়তে পারেন না, তাঁদের জন্য পালকি রয়েছে। চড়াই শুরুর জন্য ভোরের সময়টিই সবচাইতে উপযুক্ত। কারণ মাথার উপর সূর্য উঠে গেলে, যাত্রা রীতিমতো পরিশ্রমসাধ্য হয়। তাছাড়া, মন্দির দর্শন সেরে সূর্যাস্তের আগেই যাতে ফিরে আসা যায়, সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয় সকলকেই।
