ঘর থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত দেহ! তাঁকে 'খুন' করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। ঘটনায় সন্দেহের তির যুবকের স্ত্রী ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার সরশুনায় (Sarsuna)। মৃত ওই যুবকের নাম সানি সিং। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সরশুনা এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে স্ত্রী পুনিতা সিং ও মেয়ে তানিশাকে নিয়ে থাকতেন বছর ৩৪ বয়সের সানি সিং। অভিযোগ, সানির নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস ছিল। সেই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যদিন অশান্তিও হত! সোমবার রাতেও একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, অশান্তি হয়েছিল বলে অভিযোগ। মেয়ে ও স্ত্রীকে রাতে বাড়ি থেকে সানি বার করে দিয়েছিলেন! পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মেয়েকে নিয়ে রাতে পুনিতা ফের বাড়িতে ঢুকতে পেরেছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে ওই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল সানি সিংয়ের গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত মৃতদেহ। জানা গিয়েছে, পুনিতা যে ঘরে ছিলেন তার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। প্রতিবেশীদের সাহায্যে ব্যালকনি দিয়ে নিচে নেমে বাড়ির দরজা খুলে তিনি ভিতরে ঢুকেছিলেন। পরে ঘরের মধ্যে ওই ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর দেওয়া হয় সরশুনা থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে। সানির গলায় কেবল ফাঁসের দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
মৃতদেহ উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই হয় ময়নাতদন্ত। শ্বাসরোধ হয়েই মৃত্যুর হয়েছে সানির। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রাথিকভাবে সেই কথা জানা গিয়েছে বলে খবর। গতকাল রাতে সানির দিদি পুনিতা সিং ও রাকেশ পাসোয়ানের বিরুদ্ধে থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাকেশ সম্পর্কে সানির শ্যালক বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
