ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকেও হার মানায় বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় 'বিবাহ অভিযান'। প্রথম স্ত্রী'র সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার ছাঁদনাতলায় বসেছেন নেতা-অভিনেতা। ওয়াকিবহালমহল বলছে, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী, যা কিনা আইনত অপরাধ। ফলস্বরূপ, অভিযুক্তের বছরখানেকের জেলও হতে পারে। অতঃপর হিরণের দ্বিতীয় দাম্পত্য ইনিংস এখন বিনোদুনিয়ার 'টক অফ দ্য টেবিলে'র গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিকমহলেও তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। যে বিতর্কযজ্ঞে ঘৃতাহূতি করেছে হিরণের প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য। আইনবিরুদ্ধ এহেন বিয়েতে গেরুয়া শিবিরের কী মত? স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ।
খড়্গপুরে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিধায়কের ইনিংস যে দিলীপ ঘোষের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের অগ্রজ প্রবীণ নেতার হাত ধরেই বাজিমাত করেছিলেন টলিপাড়ার 'মাচো মস্তানা'। সেদিক থেকে হিরণের বিজেপিতে 'কেরিয়ার' গড়ার অন্যতম গড ফাদার দিলীপ ঘোষই। খড়্গপুরের পিচে ভোটপ্রচারের ময়দানে দুই নেতার সমীকরণও নজর কেড়েছে এর আগে। একসময়ে দিলীপ-ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাই এহেন সংবেদনশীল বিষয়ে বিজেপির প্রবীণ নেতা কী বলেন, সেদিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। অবশেষে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন পঁচিশ সালে প্রথমবার বৈবাহিক ইনিংস শুরু করা দিলীপ ঘোষ।
সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানান, "কে কাকে বিয়ে করবে, কীভাবে জীবনযাপন করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।" দিলীপের এহেন মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কোনও মন্তব্য করে অযাচিত বিতর্ক বাড়াতে তিনি নারাজ। পাশাপাশি এই চলতি বিতর্ক থেকেও যে নিজেকে সরালেন, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, বিজেপির তারকা বিধায়কের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাও ট্রোল-মিমে মেতেছে। কেউ হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের কথা মনে করিয়েছেন হিরণকে তো কেউ বা আবার ঘরে স্ত্রী-সন্তানকে অন্ধকারে রেখেই দ্বিতীয়বার সাতপাক বাঁধা পড়া নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তাঁকে।
