এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষের নাম বাদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত তৃণমূল। আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় থেকে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা আশঙ্কা করেছিলেন ইচ্ছাকৃতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলেও যে আন্দোলন হবে, সেকথা বারবার জানিয়েছেন মমতা-অভিষেকরা। গত ৪ নভেম্বর, দক্ষিণ কলকাতায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মহামিছিল করেন মমতা।
এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতার জল গড়িয়েছে দিল্লিতেও। একের পর এক চিঠির পর ইতিমধ্যে দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন মমতা-অভিষেকরা। সাধারণ মানুষের এসআইআর 'যন্ত্রণা'র কথা তুলে ধরতে সুপ্রিম কোর্টে নিজে দাঁড়িয়ে সওয়ালও করেছেন মমতা। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ভোটমুখী বাংলায় প্রায় ৬৪ লক্ষের নাম বাদ দিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলেই অভিযোগ শাসক শিবিরের। আর তার প্রতিবাদে এবার ধরনায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সেকথা ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এসআইআর তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষের নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে বিজেপির বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রাকে দায়ী করেছেন তিনি। অভিষেক আরও বলেন, "এইভাবে এত বিধানসভার মানুষের নাম অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে থাকলে সেখানে ভোট হলে হলেও তো অমীমাংসিত থেকে যাবে।" সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, "বেশি চালাকি করতে যাবেন না। আপনাকে চ্যালেঞ্জ করলাম আমার নামে মামলা করুন। আমি তাহলে মামলা লড়ার সুযোগ পাব। ধরে ধরে মুখোশ খুলব। আপনি যাদের অ্যাজুডিকেশন করেছেন তারাই আপনাদের ৬ মাসের মধ্যে বিচারাধীন করবে।" নাম বাদ যাওয়া দলীয় কর্মীদের ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার পরামর্শও দেন অভিষেক।
