রাজ্যে এসআইআর শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সংখ্যার গরমিলের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যে উঠে আসা বাদের সংখ্যা! রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে সেসব বক্তব্যের ভিডিও দেখিয়ে, রীতিমতো অঙ্ক কষে বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে তাঁর অভিযোগ, ''টার্গেট অনেক আগে সেট হয়ে গিয়েছিল। বিজেপি নেতারাই তা করে দিয়েছিলেন। সেইমতো চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা বলি, এই কমিশন হচ্ছে বিজেপির সহকারী সংস্থা। কমিশন সুপ্রিম কোর্টের কথা মানে না। এঁদের উপর বিচারব্যবস্থার ভরসা নেই। তাই বিচারপতি নিয়োগ করতে হয়েছে। এসব বলার জন্য আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন, আমি লড়ব। একাধিক প্রমাণ দেব।''
শনিবার প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কমবেশি ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সেইসঙ্গে বিচারাধীন বা অ্যাজুডিকেশনের আওতায় নাম রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬৬৭৫ জনের। সবমিলিয়ে সংখ্যাটা ১ কোটি ২৪ লক্ষের আশপাশে। এই অঙ্ক নিয়েই আপত্তি তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি শোনালেন শুভেন্দু অধিকারী, শান্তনু ঠাকুর, সুকান্ত মজুমদার, অসীম সরকারদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছিলেন, ১ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়বে। চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল, বাতিল এবং বিচারাধীন ভোটার মিলিয়ে সেই সংখ্যা প্রায় মিলে গিয়েছে বলে দাবি অভিষেকের।
অভিষেকের বক্তব্য, ''সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, অমীমাংসিত নামগুলি যাচাইয়ের জন্য বিচারপতিদের কাছে যাবে। ২১ ফেব্রুয়ারির পর যেসব নাম জমা পড়বে, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। আগের ভোটারদের জটিলতার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। সেই হিসেবে ১৪ লক্ষ নাম ছিল অমীমাংসিত। ইআরও, এইআরও-রা যতটা পেরেছেন সমাধান করে দিয়েছেন। কিন্তু কোন জাদুকাঠিতে এই ১৪ লক্ষ বেড়ে ৬০ লক্ষ হল? কাদের কথায়, কাদের চাপে, কাদের অঙ্গুলিহেলনে এই বাড়তি নাম অ্যাডজুডিকেশনে ঢোকানো হল?''
গত ডিসেম্বরে এসআইআরে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল ৫৮ লক্ষের নাম। আর চূড়ান্ত তালিকায় তার সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ। এছাড়া ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন। এসব তথ্য তুলে ধরে অভিষেকের বক্তব্য, ''সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, অমীমাংসিত নামগুলি যাচাইয়ের জন্য বিচারপতিদের কাছে যাবে। ২১ ফেব্রুয়ারির পর যেসব নাম জমা পড়বে, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। আগের ভোটারদের জটিলতার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। সেই হিসেবে ১৪ লক্ষ নাম ছিল অমীমাংসিত। ইআরও, এইআরও-রা যতটা পেরেছেন সমাধান করে দিয়েছেন। কিন্তু কোন জাদুকাঠিতে এই ১৪ লক্ষ বেড়ে ৬০ লক্ষ হল? কাদের কথায়, কাদের চাপে, কাদের অঙ্গুলিহেলনে এই বাড়তি নাম অ্যাডজুডিকেশনে ঢোকানো হল?''
