এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ৪০৯৬.৭০ কিলোমিটার সীমান্তে বাকি রয়েছে ফেন্সিং। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলার বিস্তীর্ণ অংশ রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফেন্সিং অর্থাৎ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে মামলায়। অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই থমকে রয়েছে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ।
মামলার আবেদনকারীর আইনজীবী অজয়কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায় জানান, সীমান্তে ফেন্সিং করতে গেলে জমি অধিগ্রহণ অপরিহার্য। তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হলেও রাজ্যের অনুমতি ছাড়া জমি অধিগ্রহণ সম্ভব নয়। সেই অনুমতিই দিচ্ছে না রাজ্য। যা নিয়ে এর আগে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, সেই রিপোর্ট এখনও আদালতে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারী। তার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ, আজ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বাকি থাকা ফেন্সিংয়ের বিষয়ে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ জানুয়ারি। এদিন রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া চলার কারণে পর্যাপ্ত কর্মী দেওয়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী বলেন, “এটা কেবল বেআইনি অনুপ্রবেশের বিষয় নয়, ক্রস বর্ডার টেরোরিজমের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।”
আদালতে তিনি জানান, ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই সংক্রান্ত একটি নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বিপুল সংখ্যায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ করছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।” আবেদনকারীর অভিযোগ, এই এলাকাগুলি দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সোনা, গরু, মোষ এবং বিপুল অঙ্কের টাকা বেআইনি ভাবে পাচার হয়ে আসছে। তিনি আদালতে আরও জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সব সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একাধিক বার বিপুল পরিমাণ পাচারের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
