অর্ণব আইচ: কেচো খুঁজতে গিয়ে একের পর এক কেউটে ধরা পড়ছে এসটিএফ-এর জালে। এবার ধরা পড়ল আহমেদ আলি ওরফে কালু। মুর্শিদাবাদের এই বাসিন্দাও জেএমবি-র সক্রিয় সদস্য বলে জানা গিয়েছে। সোমবার নিউ ফরাক্কার কাছে এক রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৩৩ বছরের যুবককে।
ঘটনাক্রম শুরু হয় বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের পর থেকে। জানা যায়, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে নিও জামাত-উল-মুজাহিদিন (নিও জেএমবি)। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, গত ছয় মাস ধরে এ রাজ্যে জঙ্গি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিল জেএমবি। তাদের প্রশিক্ষণ চলছিল মুর্শিদাবাদে। সেখানেই ঘাঁটি গেড়েছিল জেএমবি-র প্রধান সালাউদ্দিন সালেহিন। ধুলিয়ানে অনুষ্ঠান ওই সভাতেই যুবক ও তরুণদের মগজধোলাই করা হচ্ছিল। ‘মডিউল’ তৈরি করে তার আওতায় সাতটি ইউনিটও গড়া হয়েছিল। প্রত্যেকটি ইউনিটের জন্য ১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সের তরুণ ও যুবকদের নিয়োগ করেছিল জঙ্গিরা। সেই ইউনিটের মাধ্যমেই বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কিছুদিন আগে ধুলিয়ান থেকে প্রচুর বিস্ফোরকও উদ্ধার হয়।
[সিআইডির ‘অতিসক্রিয়তা’, সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ ভারতীর স্বামী]
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই এই বিস্ফোরণের মূলচক্রী ও নিও জেএমবি-র দুই জঙ্গি মহম্মদ পয়গম্বর শেখ ও জামিরুল শেখকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ধৃতরা জানায়, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের বদলা নিতেই নিও জেএমবি-র জঙ্গিরা গত ১৯ জানুয়ারি বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পয়গম্বর ও জামিরুল দু’জনের বাড়িই মুর্শিদাবাদে। তাদের জেরা করে উঠে আসে আরও এক জঙ্গির নাম। শিস মহম্মদ নামের ওই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয় মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ থেকে। জানা যায়, এই শিস মহম্মদই বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। সূত্রের খবর এই শিস মহম্মদের কাছ থেকেই আহমেদের খোঁজ পান এসটিএফ-এর কর্তারা। আর বুধবার নিউ ফরক্কা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ৩৩ বছরের যুবককে। ধৃত কালুর বাড়িও সামসেরগঞ্জেও। খুব শিগগিরই আদালতে তোলা হবে তাকে। আপাতত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জঙ্গি নেটওয়ার্কের হদিশ পেতে চাইছেন গোয়েন্দারা।
[মেট্রোয় অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র কই? জায়গা ঢেকেছে বিজ্ঞাপনে]
The post ফের এসটিএফ-এর জালে জামাত জঙ্গি, এবার পাকড়াও ‘কালু’ appeared first on Sangbad Pratidin.
