shono
Advertisement
Mamata Banerjee

সব বিদ্রোহী এক ছাতার তলায়? ২১ জুলাইয়ের আগেই মমতাকে বিরাট ধাক্কার পরিকল্পনা, ইঙ্গিত সুদীপের

আগামী ২০ জুলাই অর্থাৎ তৃণমূলের শহিদ দিবসের একদিন আগেই সংসদ অধিবেশন শুরু। সূত্রের খবর, সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই জটিলতা মিটিয়ে নিতে চাইছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির।
Published By: Subhajit MandalPosted: 10:04 PM Jun 16, 2026Updated: 10:04 PM Jun 16, 2026

একুশে জুলাই। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ঐতিহাসিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাংগঠনিকভাবেও। ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই দিনটিকে প্রতি বছর নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করত জোড়াফুল শিবির। কিন্তু এ বছর! ক্ষমতা হারাতেই দলের ছন্নছাড়া দশা। কারা নতুন তৃণমূল, কারা আসল তৃণমূল, কারা ঋতব্রত পন্থী, কারা সংসদে বিদ্রোহী এবং সবশেষে কারা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন, সব নিয়ে ধোঁয়াশা। এসবের মধ্যে একুশে জুলাই আদৌ কী হবে? শহিদ স্মরণ হলেও সেটা কীভাবে হবে, সব নিয়ে ধোঁয়াশা। এসবের মধ্যে কি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে আরও বড় ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিরোধী শিবির? অন্তত লোকসভার বিদ্রোহী শিবিরের সবচেয়ে সিনিয়র সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় তেমনটাই ইঙ্গিত মিলল।

Advertisement

তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ দল নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর মনে করা হচ্ছিল, তৃণমূলের প্রতীক-নাম এবং সম্পত্তির আশা ত্যাগ করেছেন বিদ্রোহীরা। কিন্তু মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ফেরার পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এই দলের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকচিহ্ন, সম্পদ-সেগুলো নিয়ে কী পদক্ষেপ হবে, সেগুলো বিচার্য বিষয়। তবে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে, এগুলো সবই আদালতে নিষ্পত্তি হবে।" অর্থাৎ প্রতীক এবং দলের সম্পত্তির জন্য যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা আদালতে টেনে নিয়ে যাবেন, সেই ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন সুদীপ।

শোনা যাচ্ছে, দিল্লিতে নাকি তৃণমূলের লোকসভা এবং বিধানসভার বিক্ষুব্ধদের এক ছাতার তলায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। যদি এখনও ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে এবং কাকলি-সুদীপদের তৃণমূলকে এক ছাতার তলায় আনা যায়, তাহলে এখনও মমতাকে প্রতীক নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো যেতে পারে।

কিন্তু অন্য দলে যোগ দেওয়ার পর কীভাবে তৃণমূলের প্রতীকের দাবি করতে পারেন সাংসদরা? সেখানেও কি চকমপ্রদ কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? শোনা যাচ্ছে, দিল্লিতে নাকি তৃণমূলের লোকসভা এবং বিধানসভার বিক্ষুব্ধদের এক ছাতার তলায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। যদি এখনও ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে এবং কাকলি-সুদীপদের তৃণমূলকে এক ছাতার তলায় আনা যায়, তাহলে এখনও মমতাকে প্রতীক নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো যেতে পারে। এদিন দিল্লি থেকে ফেরার সময় সে ইঙ্গিতও মিলেছে সুদীপের কথায়। তিনি বলছেন, "ব্যাপারটা অনেক দূর এগিয়েছে। বিধানসভাতেও একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে।' সুদীপের কথায়, "উভয় পক্ষ কীভাবে একসঙ্গে বসবে, কীভাবে কাছাকাছি আসবে এবং এই নতুন দলের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।"

আগামী ২০ জুলাই অর্থাৎ তৃণমূলের শহিদ দিবসের একদিন আগেই সংসদ অধিবেশন শুরু। সূত্রের খবর, সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই এদিকের জটিলতা মিটিয়ে নিতে চাইছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। সুদীপ এদিন বলেছেন, "একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ শেষ হয়েছে। এবার সকলের নিজ নিজ ক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার পালা। এরপর দ্বিতীয় দফায় আবার ডাক এলে পরবর্তী আলোচনা হবে। ২০ জুলাই লোকসভা খোলার আগেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করব।" এই পরবর্তী পদক্ষেপ কি শুধু লোকসভায় আলাদা আসনে বসা এবং এনডিএ-কে সমর্থন? নাকি ঋতব্রতদের এক ছাতায় এনে দলের প্রতীক এবং সম্পত্তি দাবি করা? সেটা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এক ছাতার তলায় আসার জল্পনায় এদিন জল ঢেলে দিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, "আমরা গতকাল দেখেছি তৃণমূলের সাংসদরা NCPI-তে যোগ দিয়ছেন। তাঁরা এখন NDA-র শরিক দল। তাঁরা হয়তো সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমাদের এই নিয়ে কোনও ধারণা নেই।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement