রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের আয়োজনে বিজেপি সরকার। সনাতন ঐতিহ্য মেনে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে সবরকমভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এই নিয়ে আজ, সোমবার পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই প্রস্তুতি বৈঠকে সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দশভুজার ১১ হাত বিশিষ্ট ছবি ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। যদিও সেই বিতর্কে ইতি টেনে নিজেই ক্ষমা চেয়ে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে বিজ্ঞাপন সংস্থাকে যে সতর্ক করা হয়েছে তাও জানান তিনি। আগামিদিনে সরকার এক্ষেত্রে সতর্ক থাকবে বলেও মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।
এর আগে এই ইস্যুতে মুখ খোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি স্পষ্ট জানান, ''মা দুর্গা আরও শক্তিশালী হয়ে গেছেন! যদিও আমি বিজ্ঞাপনটি দেখিনি। দেখুন কোন এজেন্সি ছাপতে গিয়ে ভুল করেছে। এগুলো কি রাজনীতির বিষয়? সংশোধন করে নেবে।”
পুজোর বাকি হাতে গোনা কয়েকটা দিন। তার আগে এদিন মিলন মেলা প্রাঙ্গণে সমস্ত পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। তাৎপর্যপূর্ণ এই বৈঠকের আগে সরকারি একটি আমন্ত্রণপত্র উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। এমনকী একাধিক সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়। সেখানে যে দুর্গার ছবি ব্যবহার করা হয়, তিনি একাদশভুজা! ১১টি হাতে একটি অস্ত্র অতিরিক্ত, তবে তা বোঝা যাচ্ছে না। আর এনিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি সর্বপ্রথম নজরে আনেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘একটা চমৎকার সরকারী বিজ্ঞাপন! এখানে মা দুর্গার এগারোটা হাত। দেবতাদের পক্ষ থেকে দুর্গাকে দশ হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল অসুর বধের জন্য। আর বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ঠাকুরকে একটা এক্সট্রা হাত দেওয়া হয়েছে, পুজোর সময় বাঙালির উপর কেউ নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়া জারি করতে এলে তাকে কানের গোড়ায় থাবড়া মেরে প্যান্ডেল এবং বাংলা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য।'' এমনকী বিভিন্ন স্তরে এই বিষয়ে শুরু হয় বিতর্ক।
এরপরেই এই বিষয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গনে পুজো বৈঠকের শুরুতেই তিনি বলেন, ''প্রথমেই আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আজকে ত্রুটিপূর্ণ একটি বিজ্ঞাপন সকালে বেরিয়েছিল। এজন্য আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যারা এই ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীকালে সরকার এই বিষয়ে যত্নবান থাকবে।'' বলে রাখা প্রয়োজন, এর আগে এই ইস্যুতে মুখ খোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি স্পষ্ট জানান, ''মা দুর্গা আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন! যদিও আমি বিজ্ঞাপনটি দেখিনি। দেখুন কোন এজেন্সি ছাপতে গিয়ে ভুল করেছে। এগুলো কি রাজনীতির বিষয়? সংশোধন করে নেবে।”
