আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থাকবেন। বুধবার জোকায় ভারত সেবাশ্রম হাসপাতালের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশ রুখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাইডলাইন মেনে যৌথভাবে কাজ করা হবে।
ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিগত ৪৫ দিনে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর এবং ১২টি জায়গায় হোল্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এই স্টেশনগুলির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে আরও হাজার-দেড় হাজার মানুষ সেখানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার থানাগুলি বিএসএফ-এর সহযোগিতায় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে জেলে পাঠানোর পরিবর্তে সরাসরি হোল্ডিং স্টেশনে পাঠাচ্ছে, যেখান থেকে প্রোটোকল মেনে তাদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলি নিয়েও কাজ চলছে।"
শুভেন্দু আরও জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে জাতিগত জনগণনা শুরু হতে চলেছে, যার চূড়ান্ত ফল ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে প্রকাশিত হবে। এই সেনসাসে সেলফ ডিক্লারেশনের ব্যবস্থাও থাকছে। সেনসাসের প্রকৃত চিত্র সামনে এলেই অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে এবং সব সত্য প্রকাশ্যে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে গঠিত কেন্দ্রের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি খুব শীঘ্রই রাজ্য সফর শুরু করতে চলেছে। প্রথম দফায় একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও আসবে কমিটি। সফরের আগে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই প্রশ্নমালা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তার সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির মূল্যায়ন করবে কমিটি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও অনুপ্রবেশ অন্যতম ইস্যু ছিল বর্তমান শাসকদল বিজেপির। নতুন সরকারের আমলে কমিটির এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ। অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে বাংলাতে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয় কি না, সে দিকেও চোখ রয়েছে কেন্দ্রের।
