সেবাশ্রয় 'কেলেঙ্কারি' নিয়ে এবার আরও বিপদ বাড়ল অভিষেকের। নতুন করে এফআইআর দায়ের হল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এফআইআরে নাম অভিষেকের পিএ সুমিত রায়েরও। সেবাশ্রয়ের ভুল চিকিৎসায় মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস নামে এক মহিলার পা বাদ যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। দু'দিন আগেই রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল পরিবার। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার জল গড়াল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরেও। ভুক্তভোগী মহিলা ও তাঁর পরিবারকে স্বাস্থ্যভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আগামিকাল সকাল ১১টায় নথিপত্র সহ ওই পরিবারকে ডাকা হয়েছে। এবার তাঁদের যাবতীয় অভিযোগ শুনবে স্বাস্থ্যভবন।
হাতুড়ে কিংবা পড়ুয়া ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিলি রোগীদের। রাজ্যে পালাবদল হতেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ ছিলই। দিন দুয়েক আগে প্রকাশ্যে এসেছিল জলজ্যান্ত প্রমাণ। চিকিৎসা পরিষেবার আশায় সেবাশ্রয়ে গিয়ে খেসারত দিতে হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসকে। অভিযোগ, সেবাশ্রয়ের ‘ভুল’ চিকিৎসায় এক পা খুইয়েছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁর পরিবার।
অভিযোগ করেন, হাঁটু ব্যথা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসার আশায় গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেখান থেকে প্রাথমিক চেকআপের পর তাঁকে বেশ কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। সেই ওষুধ খেয়েই নাকি হাঁটুর ব্যথা ভয়ঙ্কর বেড়ে যায়। ফের সেবাশ্রয়ে ব্যথা নিয়ে গেলে, তাঁকে রেফার করা হয় এমআর বাঙুর হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, ভুল চিকিৎসায় পায়ের অবস্থা খারাপ। সেখান থেকে ওই মহিলাকে পার্কসার্কাস চিত্তরঞ্জনে রেফার করা হয়। অবশেষে ন্যাশনাল মেডিক্যালে ওই মহিলার পায়ের অস্ত্রোপচার হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের অভিযোগ করেন, হাঁটু ব্যথা নিয়ে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসার আশায় গিয়েছিলেন ওই মহিলা। সেখান থেকে প্রাথমিক চেকআপের পর তাঁকে বেশ কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। সেই ওষুধ খেয়েই নাকি হাঁটুর ব্যথা ভয়ঙ্কর বেড়ে যায়। ফের সেবাশ্রয়ে ব্যথা নিয়ে গেলে, তাঁকে রেফার করা হয় এমআর বাঙুর হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, ভুল চিকিৎসায় পায়ের অবস্থা খারাপ। সেখান থেকে ওই মহিলাকে পার্কসার্কাস চিত্তরঞ্জনে রেফার করা হয়। অবশেষে ন্যাশনাল মেডিক্যালে ওই মহিলার পায়ের অস্ত্রোপচার হয়। একের পর এক ‘রেফার রোগে’ রীতিমতো দিনের পর দিন পায়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তাঁর পা কেটে বাদ দিতে হয়। এই করুণ পরিণতির পর বহুবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেই চাননি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় মহিলা ও তাঁর পরিবার। থানায় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস।
এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। এফআইআরে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়েরও। অভিষেকের সেবাশ্রয়ে 'বেনিয়ম' পরিচালনার ক্ষেত্রে যাঁর অবদান ছিল বিরাট। শুধু তাই নয়, ভুল চিকিৎসায় পা বাদ যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগে এবার নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যভবনও। এবার ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সরাসরি যাবতীয় অভিযোগ শুনতে চান স্বাস্থ্য কর্তারা।রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই সংক্রমণের মতো মামলায় জর্জরিত তৃণমূল কংগ্রেসের 'যুবরাজ'। একের পর এক চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে শ্রীঘরে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে বিরোধী শিবির।
