তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা, উপনেতা ও মুখ্যসচেতকের প্রস্তাবে কার সই কে করেছে, তা নিয়েই তোলপাড় বাংলার রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন ও সন্দেহ তৃণমূলের অন্দরেই। কার্যত চোরাস্রোত বইছে। ঘনাচ্ছে সন্দেহের মেঘ।
বিরোধী দলনেতার নাম লিখে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া স্বাক্ষর নিয়েই অসঙ্গতিতে তদন্তে নামে সিআইডি। বৃহস্পতিবার রাতেই একাধিক বিধায়কের বাড়িতে সই যাচাইয়ে চলে যায় সিআইডি টিম। আর তারপরই বেড়েছে উদ্বেগ। হেয়ার স্ট্রিট থানায় বিধানসভার তরফে অভিযোগ দায়েরের পরই নাটকীয় পরিস্থিতি। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা নিয়ে নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে।
বৃহস্পতিবার রাতে চৌরঙ্গীর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বাহারুল ইসলামের বাড়ি সিআইডি যায়। শুক্রবার সকালে সিআইডি আধিকারিকরা যান বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি। বাহারুল আগেই জানান, "তদন্তকারীরা আমার কাছে জানতে চান ৬ মে আমি কোথায় ছিলাম। আমি তাঁদের জানাই, ওই দিন আমি বাড়িতেই (ভাঙড়ে) ছিলাম। ওই দিনের একটি মিটিংয়ের সই আমায় দেখানো হয়। আমি তাঁদের বলি, ওই দিন আমি কোনও মিটিংয়ে যোগ দিইনি। ভোট-পরবর্তী হিংসার কারণে বাড়িতেই ছিলাম।” এরপর জটিলতা বাড়ে। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব বলেন, "আমি কোনও বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে। আমরা কাউকে দিয়ে জোর করে সই করাইনি। কে লিখেছে জানি না। তবে বাহারুল ওই সইটি দেখে বলেছেন ওটা ওঁর সই নয়।"
অন্যদিকে, তাপস মাইতি সিআইডিকে জানান, স্বাক্ষরটি তাঁর। এ দিন সাতসকালে সইয়ের নমুনা সংগ্রহ করতে বোলপুরে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে নায়েকপাড়ায় চন্দ্রনাথের বাড়িতে হাজির সিআইডি। ছোট এবং বড় হরফে তৃণমূল বিধায়কের সইয়ের নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতা ফেরেন রাজ্য পুলিশ অফিসাররা। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে চন্দ্রনাথের সই নমুনা সংগ্রহ করেন অফিসারেরা। তবে সিআইডি সূত্রে জানা যায়, শপথ গ্রহণের দিন বাংলায় সই করেছিলেন বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা। আর বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সমর্থনপত্রে ইংরেজিতে সই রয়েছে।
