shono
Advertisement

Breaking News

TMC

এবার কি প্রতীক হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের! বিরোধী দলের রাশ নিয়ে মামলা সোমে, কৌশলী ঋতব্রত শিবিরও

বর্তমানে দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাজধানীতে রাজনীতির সলতে কোনদিকে পাকায়, সেদিকে নজর সকলের। তারপরই পরবর্তী কঠোর কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন ঋতব্রতপন্থীরা।
Published By: Sayani SenPosted: 04:47 PM Jun 07, 2026Updated: 06:15 PM Jun 07, 2026

মমতা বনাম ঋতব্রত তৃণমূল। কারা 'আসল তৃণমূল' আর কারা নয়, তা নিয়ে চলছে নজিরবিহীন টানাপোড়েন। সোমবার এই অসন্তোষের জল গড়াতে চলেছে কলকাতা হাই কোর্টে। মামলা দায়ের করবেন মমতাপন্থীরা। শোনা যাচ্ছে, দ্রুত শুনানির দাবি করবেন তাঁরা। আবার সংসদীয় দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা-ও নির্ধারিত হতে পারে সোমবার। স্বাভাবিকভাবে এই পরিস্থিতির দিকে নাকি কড়া নজর রেখেছেন ঋতব্রতপন্থীরা। তারপরই হয়তো পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। শোনা যাচ্ছে, হয়তো প্রতীকের দাবিতে আইনি পথেও হাঁটতে পারেন 'বিদ্রোহী' বিধায়করা।

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। শোনা গিয়েছে, ঘরোয়া বৈঠকে নাকি বারবার অভিযোগের আঙুল উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর 'একাধিক ভুলে' দলে এমন ভরাডুবি বলেই দাবি করা হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা-সহ আরও অনেকেই একে একে মুখ খোলেন। তারই মাঝে গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটের বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সচিবের সন্দেহ হয়। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় তিনি থানায় এফআইআর করেন। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি।

এই টানাপোড়েনের মাঝে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম স্পষ্ট দাবি করেন, তিনি সই করেননি। অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ২-৩জন যুবকই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সই করেছে। এদিকে, আবার অভিষেকের নেতৃত্বের বিরোধিতা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা 'আসল তৃণমূল' তৈরি করেন। বিরোধী দলনেতা হন ঋতব্রত। বঙ্গ রাজনীতিতে অতীতে কোনওদিন এমন ঘটনার সাক্ষী হয়নি। এককথায় তা নজিরবিহীন। এই পরিস্থিতিতে 'ঘর বাঁচাতে' মরিয়া চেষ্টা করছেন তৃণমূলনেত্রী। শোনা গিয়েছে, তিনি নাকি বেশ কয়েকজন 'বিদ্রোহী' বিধায়ককে ফোনও করেছেন। তৃণমূলের খোলনলচেও বদলে দিয়েছেন। অভিষেকের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেনের মধ্যে। পদ না কাড়লেও কিংবা মুখে কিছু না বললেও, অভিষেক যে আর দলে একাই একশো নন, তা তৃণমূলনেত্রীর পদক্ষেপেই স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাজধানীতে রাজনীতির সলতে কোনদিকে পাকায়, সেদিকে নজর সকলের। তারপরই পরবর্তী কঠোর কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন ঋতব্রতপন্থীরা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement