shono
Advertisement
Narendra Modi

মোদিকে সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবার ছবি উপহার বঙ্গ বিজেপির! কী বললেন সাংসদ?

৭৮ বছর আগে মালদহের জন্য তাঁর 'ভূমিকা' ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই শিবেন্দুশেখর রায়ের ছবিই এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উপহার হিসাবে তুলে দেন বঙ্গ বিজেপি নেতারা।
Published By: Kousik SinhaPosted: 12:28 AM Jan 18, 2026Updated: 12:28 AM Jan 18, 2026

তিনি ছিলেন একসময়ের হিন্দু মহাসভার নেতা। ৭৮ বছর আগে মালদহের জন্য তাঁর 'ভূমিকা' ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই শিবেন্দুশেখর রায়ের ছবিই এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উপহার হিসাবে তুলে দেন বঙ্গ বিজেপি নেতারা। শুধু তাই নয়, মালদহের মাটিতে দাঁড়িয়ে শিবেন্দুশেখর রায়ের অবদানের কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শিবেন্দুশেখর রায় তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবা। ফলত দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাবার অবদানের কথা উঠে আসায় 'খুশি' সাংসদ। 

Advertisement

সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আজ শনিবার মালদহে সভা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সভার শুরুতেই বিজেপির রাজ্যসভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ বঙ্গ বিজেপি নেতারা একটি ছবি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন। ছবিটি শিবেন্দুশেখর রায়ের। যিনি কিনা রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবা। নতুন প্রজন্মের অনেকেই সেই ছবিটির সঙ্গে পরিচিত নন! ফলে তৃণমূল সাংসদের বাবার ছবি উপহার হিসাবে দেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল।

ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতার আগে মালদহে আইনজীবী হিসাবে খ্যাতি অজর্ন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, সে জেলারই হিন্দু মহাসভার জেলা সম্পাদকও ছিলেন শিবেন্দুশেখর রায়ের। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের খুবই একজন ঘনিষ্ঠ মানুষ ছিলেন। এখানেই শেষ নয়, ১৯৪৭ সাল, দেশভাগের সময় মুসলিম লিগ মালদহকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সুর চড়াচ্ছে। সেই সময় মালদহকে ভারতে রাখতে চেয়ে শ্যামাপ্রসাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিবেন্দুশেখর রায়। শুধু তাই নয়, কীভাবে তা রাখা সম্ভব সেই পথও খুঁজে বের করেছিলেন তিনি। ফলে তাঁর অবদান অনেকে।

শুধু ছবিই নয়, এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যেও উঠে আসে শিবেন্দুশেখর রায়ের অবদানের কথা। সভার শুরুতেই মোদি বলেন, ‘‘আমি সর্বপ্রথম মালদহের মহান সুপুত্র শিবেন্দুশেখর রায়কে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাচ্ছি। যাঁর প্রচেষ্টায় মালদহের পরিচয় বেঁচে রয়েছে।’’ দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের শুরুতেই বাবার কথা উঠে আসায় স্বভাবতই খুশি ছেলে সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি বলেন, ''আমার বাবা ৭৮ বছর আগে মালদহের জন্য নিয়েছিলেন, তা এখন বিস্মৃত। শুধু বাংলা নয়, মালদহের বর্তমান প্রজন্মও শিবেন্দুশেখর রায়ের সেই ভূমিকার কথা জানেন না। এত বছর পর শিবেন্দুশেখর রায়ের ভূমিকার কথা যেভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাতে বংশজেরা তো গর্ব অনুভব করবেনই।''

পাশাপাশি বাবার অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি জানিয়েছেন, পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে মালদহের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছিল দেশভাগের সময়। তা আটকাতেই উদ্যোগী হয়েছিলেন শিবেন্দুশেখর রায়।

সাংসদের কথায়, মালদহের ইতিহাস, তৎকালীন পরিস্থিতি এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিষয় বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের’ (র‌্যাডক্লিফ কমিশন) কাছে একেবারে যুক্তি সহ তুলে ধরার আবেদন নিয়ে ব্যারিস্টার এনসি চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিবেন্দুশেখর। কিন্তু সেই সময় সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কমিশনের কাছে বারবার ছুটতে হচ্ছিল ব্যারিস্টার এনসি চট্টোপাধ্যায়কে। এই অবস্থায় মালদহ নিয়ে বিশেষ কোনও সাহায্য যে করতে পারবেন না তা শিবেন্দুশেখর রায়কে জানিয়ে দেন। এই অবস্থায় শ্যামাপ্রসাদের দ্বারস্থ হলে তিনি নিজে ব্যারিস্টার এনসি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এরপরেই শিবেন্দুশেখরক এই বিষয়ে ব্যারিস্টার এনসি চট্টোপাধ্যায় সাহায্য করেছিলেন বলে জানান সুখেন্দুশেখর রায়।

তিনি জানান, বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের কাছে মালদহের ভারতের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কীভাবে যুক্তি তুলে ধরবেন শিবেন্দুশেখর তাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে কারা কারা তাঁকে সাহায্য করেছিলেন তাও জানান সাংসদ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement