সাক্ষাতের সময় দেননি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু, এই কারণে স্পিকারের ঘরের সামনেই বুধবার বিকেলে অবস্থানে বসেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিধানসভায় এখনও ঘর পাননি বিরোধী দলের বিধায়করা। ঘর পাননি তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও। এই নিয়ে কথা বলতে বুধবার স্পিকারের সময় চান শোভনদেব ও কুণাল। কিন্তু স্পিকার সময় না দেওয়ায় স্পিকারের ঘরের সামনেই অবস্থানে বসেন তাঁরা। যদিও সন্ধ্যের পর স্পিকার নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে শোভনদেব ও কুণাল অবস্থান তুলে নেন।
বিধানসভায় তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়ক রয়েছেন। কিন্তু এদিন বিধানসভায় স্পিকারের ঘরের সামনে অবস্থানে মাত্র ২ জন বিধায়ককে দেখা গিয়েছে। অবস্থানে বসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুণাল ও শোভনদেব। শোভনদেবের মতো প্রবীণ বিধায়ককে স্পিকার সময় না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, "তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক, এত বছরের রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাও তাঁকে সম্মান জানালেন না। আমরা চেয়েছিলাম স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে ভুলভ্রান্তি কিছু হয়ে থাকলে জেনে নিতে।" শোভনদেব বলেন, "আমরা একবার মুখোমুখি দেখা করে স্পিকারের কাছে জানতে চাইছিলাম কী সমস্যা? কিন্তু তিনি দেখাই করলেন না।"
বিধানসভায় এখনও ঘর পাননি বিরোধী দলের বিধায়করা। গতকালই বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু জানিয়েছেন, বিরোধীদের জন্য বরাদ্দ হওয়া ঘরের সংস্কার চলছে। কাজ শেষ হলেই ঘর তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ফলে কবে বিধানসভায় ঘর পাবে তৃণমূল? সেই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই নিয়ে কথা বলতেই বিধানসভার স্পিকারের সময় চেয়েছিলেন শোভনদেব ও কুণাল।
রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া নিয়ে বিধানসভায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি বিধানসভার সচিবালয়ে জমা পড়েছিল। কিন্তু সেই চিঠি পরিষদীয় রীতিকে মান্যতা দেয় না বলে জানায় বিধানসভার সচিবালয়। অভিষেকের সেই চিঠি নিয়ে স্পিকার জানান, তৃণমূলের এই চিঠিতে পরিষদীয় দলের স্বাক্ষর নেই। রীতি মেনে তৃণমূলের বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি বিধানসভার সচিবালয়ে জমা দিলেই তৃণমূলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হবে। সেই মতো তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে নিয়ম মেনে চিঠি জমা দেওয়া হয়। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার বিধানসভায় আসেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। তৃণমূলের যাবতীয় আর্জি, চিঠি, রেজোলিউশনের কপি তিনি খতিয়ে দেখেন। পরে তিনি জানান, বিরোধী দলের ঘর সংস্কারের কাজ চলছে। সেসব হয়ে গেলেই বিরোধীদের ঘর দেওয়া হবে।
যদিও এবিষয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, বিধানসভা গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শাসকদলের অন্যান্য ঘর সংস্কার হয়ে গেল। বিরোধীদের ঘর সংস্কারের ক্ষেত্রেই দেরি হচ্ছে কেন? এই নিয়েই কথা বলতে আজ স্পিকারের সময় চান শোভনদেব ও কুণাল।
