মধ্যমগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করল তৃণমূল। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের হত্যার পাশাপাশি ভোট পরবর্তী হিংসায় তিনজন তৃণমূল কর্মীর খুনের ঘটনারও নিন্দা করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
এআইটিসি-র এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, "আজ রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এই সঙ্গে নিন্দা জানাচ্ছি আদর্শ আচরণ বিধি লাগু থাকা সত্বেও নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় গত তিন দিনে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতে তিনজন টিএমসি কর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনাকেও।" যোগ করা হয়েছে, "আমরা এই বিষয়ে কঠোরতম পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি, যার মধ্যে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তও অন্তর্ভুক্ত, যাতে দোষীদের শনাক্ত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা যায়।"
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় হামলা হয় চন্দ্রনাথের উপরে। বাইকে করে এসে দুই দুষ্কৃতী পথ আটকায় শুভেন্দুর আপ্তসহায়কের গাড়িটির। এর পরেই এলোপাথাড়ি গুলি করে পালায় তারা। বাইকটিতে নম্বর প্লেট ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। চন্দ্রনাথের বুকে-পেটে ও মাথায় গুলি লাগে। হামলায় আহত হন গাড়ির চালকও। তড়িঘড়ি শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে মধ্যমগ্রামের ভিভা সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও চিকিৎসকরা জানান ইতিমধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ গাড়িচালককে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে ব্যারাকপুরে জয়ী বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী বলেন, “ঘটনার পরিনাম তৃণমূলকে ভুগতে হবে। পুরোটা মমতা-অভিষেকের নির্দেশে হয়েছে। যতক্ষণ না দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, দেহ দাহ করব না।” ভিভা সিটি হাসপাতলের সামনে জরো হয়েছেন অসংখ্য বিজেপি কর্মী সমর্থক। সেখানে পৌঁছেছেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, শঙ্কর ঘোষ, পীযূষ কানোরিয়া, কৌস্তভ বাগচী, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বিজেপি নেতারা। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি করেছেন, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে খুন করেছে।
