shono
Advertisement
Pratik Ur Rahaman

'সেলিমদা, ক্ষমা করে দিন', তৃণমূলে যোগের সপ্তাহ পেরনোর আগেই কেন বললেন প্রতীক উর?

প্রাক্তন সহযোদ্ধাদের কী বললেন প্রতীক উর?
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 11:43 AM Feb 25, 2026Updated: 02:12 PM Feb 25, 2026

দিন কয়েক আগেই যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। যা বাম নেতা-কর্মীদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। প্রতীক উরের মতো মাঠে-ময়দানে দলের হয়ে লড়াই করা নেতার দলবদল মানতে পারছেন না কেউই। স্বাভাবিকভাবেই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বাম নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। কেউ কেউ আবার সুকৌশলে বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মন ভাঙার জন্য একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষমা চাইলেন প্রতীক উর। এখানেই শেষ নয়। জানালেন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হলে হাত ধরে ক্ষমা চাইবেন তিনি।

Advertisement

বামনেতা প্রতীক উর রহমান। ছবি-সোশাল মিডিয়া।

সিপিএমের রাজ্য ও জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ, দলের রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শিরোনামে ডায়মন্ড হারবারের প্রতীক উর (Pratik Ur Rahaman)। পদত্যাগের চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই কানাঘুষো শুরু হয় তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি জল্পনায় সিলমোহর পড়েছে। আমতলায় খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের পতাকা হাতে নিয়েছেন প্রতীক উর। তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে কাটাছেঁড়া চরমে উঠেছে। অধিকাংশেরই দাবি, স্রেফ আখের গোছাতে সিপিএমের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ করেছেন তিনি। কারণ, কোনও অভিযোগ না তুলে তৃণমূলে যোগ দিলে তাঁকে সুবিধাবাদী তকমা দেওয়া হত। একাধিক সাক্ষাৎকারে তা নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রতীক উর। তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে এরকম সিদ্ধান্তে বাধ্য করেছেন দলেরই কিছু নেতা। নিশানায় যে মূলত সেলিম, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। তাঁকে 'গব্বর সিং' তকমাও দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে মহম্মদ সেলিম বলেছিলেন, প্রতীক উরকে হারানো সন্তান হারানোর যন্ত্রণার সমান। 

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই 'গব্বর সিং' সেলিমদার কাছেই ক্ষমা চাইবেন বলেই জানালেন প্রতীক উর। বিষয়টা ঠিক কী? সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীক উরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, "যদি বন্ধ ঘরে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হয় কী করবেন?" তাঁর জবাবে প্রতীক উর বলেন, "সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করব, ভালো আছেন? তারপর হাতদুটো ধরে বলব, ক্ষমা করে দিন। আপনার শেষ কথাগুলো আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।"

এবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই 'গব্বর সিং' সেলিমদার কাছেই ক্ষমা চাইবেন বলেই জানালেন প্রতীক উর। বিষয়টা ঠিক কী? সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীক উরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, "যদি বন্ধ ঘরে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হয় কী করবেন?" তাঁর জবাবে প্রতীক উর বলেন, "সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করব, ভালো আছেন? তারপর হাতদুটো ধরে বলব, ক্ষমা করে দিন। আপনার শেষ কথাগুলো আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।" প্রতীক উরের কথায় স্পষ্ট, উনি জানেন তাঁর সিদ্ধান্ত সহযোদ্ধাদের মতোই বাম কর্মী-সমর্থকদের আঘাত করেছে। তাঁকে দেখে যারা শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার সাহস দেখিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে 'অপরাধী' হয়ে গিয়েছেন তিনি। একসঙ্গে মিটিং-মিছিল করা বন্ধু, সকল কর্মী-সমর্থকদের কাছেও ক্ষমা চাইলেন প্রতীক উর। বললেন, "জানি হয়তো পারবেন না, তাও বলব ক্ষমা করে দিন।" এতেই একাংশ মনে করছে তৃণমূলে যোগ দিয়েই নাকি মোহভঙ্গ হয়েছে তাঁর। বুঝতে পারছেন এ দল তাঁর জন্য নয়। 

বামনেতা প্রতীক উর রহমান। ছবি-সোশাল মিডিয়া।

কিন্তু এই বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রতীক উর। তিনি সাফ বলেন, "২০ বছর তো বামেদের দিয়েছি। তাও প্রশ্ন করতে পারিনি। আগামী ২০-৩০ বছর তৃণমূলকে দেব। দেখি না প্রশ্ন করতে পারি কি না। আমি ১০০ শতাংশ দিয়ে আগেও দল করেছি। এখনও করব। মানুষের জন্য কাজ করব। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন মানুষ পায় তা দেখব।" অনেকেই দাবি করছেন, মোটা টাকার বিনিময়ে নাকি তৃণমূল কিনে নিয়েছে প্রতীক উরকে। জবাবে প্রাক্তন বামনেতা বলেন, ''আমার যেটা মূল নম্বর, সেটায় ইনকামিং এখন বন্ধ। কারণ রিচার্জ করার পয়সা নেই। টাকা পেলে রিচার্জ অন্তত করতাম।" পাশাপাশি হোলটাইমারের সামান্য অর্থ যে তাঁর কাছে কতটা সম্মানের ছিল সেকথাও জানালেন প্রতীক উর। বুঝিয়ে দিলেন, রাগ ধীরে ধীরে কমছে, তবে আগামী সময়টা তিনি তৃণমূলকেই দেবেন।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement