স্টাফ রিপোর্টার: দিনদুপুরে গলির মধ্যে যুবককে মেরেই চলেছে দু’জন। যুবক চিৎকার করে বলছেন, “আমি ইভটিজিং করিনি। শ্লীলতাহানিও নয়। ছেড়ে দাও আমায়।” কিল, চড়, ঘুসি মেরেই ক্ষান্ত হল না তারা। ময়লা কুড়ানোর বেলচা দিয়ে তারা যুবকের মাথা ও হাতে আঘাত করতে থাকে। যুবকের উপর হামলা চলতে দেখেও এগিয়ে আসেননি মধ্য কলকাতার মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের বাসিন্দারা।
রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল মহম্মদ আসগর খান (৩০)কে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই যেন আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। বারবার স্ত্রী ও দাদাদের বলছিলেন, “তোমরা বিশ্বাস কর, মেয়েটাকে আমি ইভটিজিং করিনি। এই অপবাদ মিথ্যা। আমার কোনও দোষ নেই।” অপমানের গ্লানি মেনে নিতে পারেননি আসগর। বৃহস্পতিবার রাতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বাথরুমের অন্য একটি দরজা দিয়ে বাইরে গিয়ে নিচে ঝাঁপ দেন আসগর। পুলিশের ধারণা, অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জানিয়েছে, উপর থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যদিও এই মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।
[প্রতিবাদ সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরাল আক্রমণ বিজেপি নেতাদের]
এদিকে, আগেই আসগরকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে সোনু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য যুবক ইরসাদ পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনতে পারে পরিবার। জানা গিয়েছে, গত সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকোর বালক দত্ত লেনের বাসিন্দা ফলের ব্যবসায়ী আসগর যাচ্ছিলেন দিদির বাড়িতে। মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের অপরিসর রাস্তায় একদিকে ভ্যাটের কাছে ময়লা। পাশেই একটি স্নানের জায়গা। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরীটি। তাকে হাত দিয়ে অল্প ঠেলে রাস্তা তৈরি করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আসগর। হঠাৎই ছুটে আসে কিশোরীর দুই দাদা সোনু ও ইরশাদ। তারা বোনের শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তোলে। প্রতিবাদ জানিয়ে আসগর বলেন, তিনি ইভটিজিং করেননি।কথা কাটাকাটি শুরু হয়। দুই ভাই মিলে আসগরকে কিল, ঘুষি মারতে থাকে। এর মধ্যেই একজন হাতে তুলে নেয় ময়লা ফেলার বেলচা। সেটি দিয়েই তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন পরিবারের লোকেরা। আসগরকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জোড়াসাঁকো থানায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়।
আসগরের দাদা মহম্মদ নাসির খান জানান, হাসপাতালে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন তাঁর ভাই। তিনি বারবার বাড়ির লোকেদের বলতে থাকেন, তিনি কোনও দোষ করেননি। অপবাদ দিয়ে তাঁকে মারা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভাইয়ের সঙ্গে ছিলেন বড় দাদা হারুণ খান। আসগর বলেন, তিনি বাথরুমে যাবেন। বাথরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন হারুণ। পনেরো মিনিট পরেও ভাই না বের হলে তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি বাথরুমে ঢুকে দেখেন, পিছনের একটি দরজা খোলা। দরজা লাগোয়া একটি সিঁড়ির উপর দেখতে পান ভাইকে। তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন কর্তব্যরত নার্সরাও। আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তিনি দাদার দিকে তাকান। তাঁকে ধরার আগেই নিচে লাফিয়ে পড়েন। তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
[স্ত্রীর সঙ্গে কুলভূষণকে সাক্ষাতের অনুমতি দিল পাকিস্তান]
The post ইভটিজিংয়ের অপবাদে পিটুনি, গ্লানিতে আত্মঘাতী যুবক appeared first on Sangbad Pratidin.
