হিলারি ক্লিনটনের পর মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। প্রায় ১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব। গত ২০১২ সালের মে মাসে কলকাতায় আসেন ক্লিনটন। শনিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী। সেখান থেকে তালতলার মাদার হাউজে যান। প্রায় ঘণ্টাদুয়েক সেখানেই ছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে চিলড্রেনস হোমেও যান। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালেও যাওয়ার কথা তাঁদের। সেখান থেকে দুপুরে সোজা চলে যাবেন দিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন সস্ত্রীক রুবিও।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সোশাল মিডিয়ায় রুবিওর কলকাতা সফর কথা জানান। তিনি লেখেন, "মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও কলকাতায় পৌঁছেছেন। এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। শনিবারই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা হবে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।" জানা গিয়েছে, শুধু কলকাতা, দিল্লিই নয়। আগ্রা, জয়পুরেও যাওয়ার কথা তাঁর।
সম্প্রতি বাংলায় শেষ হয়েছে ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। গেরুয়া শিবিরের ঝড়ে ধুয়েমুছে প্রায় সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এই প্রথমবার বাংলার ক্ষমতায় বিজেপি। সরকারের পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজ্যের উন্নতির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর কলকাতা ছোঁয়া ভারত সফর যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক সেরে শিল্পবার্তা দিয়েছেন। আবার প্রধানমন্ত্রী মোদিও বারবার বিদেশি বিনিয়োগের কথা বলেন। সেক্ষেত্রে শিল্পক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে চলেছে কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা দানা বেঁধেছে। আবার লালমণিরহাটে বিমান ঘাঁটিতে চিনের বিনিয়োগ নিয়ে চাপানউতোর চলছে। এই পরিস্থিতিতে চিনকে বার্তা দিতেই কি মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফর, স্বাভাবিকভাবে তা নিয়ে চলছে আলোচনা। সবমিলিয়ে মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফর যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
