ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা, বাংলার মনীষীদের অপমানের অভিযোগে সরব তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের (International Mother Language Day 2026) শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলার ভাষার উপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার অঙ্গীকার, "যেকোনো ভাষার উপর যদি আক্রমণ আসে - আমরা সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। সকল ভাষা সমানভাবে সম্মাননীয়।"
X হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, "রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-সুকান্ত-জীবনানন্দের বাংলা শুধু নয়, আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। এটা আমার গর্ব যে, আমাদের সময়ে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি, তেলুগু ভাষাকে আমরা সরকারি ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছি। সাদরি ভাষার মানোন্নয়নেও আমরা সচেষ্ট হয়েছি।"
তিনি আরও লেখেন, "হিন্দি অকাদেমি, রাজবংশী ভাষা অকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা অকাদেমি, সাঁওতালি অকাদেমি - সব করা হয়েছে। এটাও সুনিশ্চিত করেছি যে, রাজ্যের প্রত্যেক ভাষাভাষী মানুষ তাঁদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার সুযোগ পায়।" মমতার অঙ্গীকার, "একুশের এই পুণ্যদিনে আরও একবার অঙ্গীকার করছি - যেকোনো ভাষার উপর যদি আক্রমণ আসে - আমরা সবাই মিলে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব। সকল ভাষা সমানভাবে সম্মাননীয়।" সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাংলা ভাষাকে মমতার রক্ষা করার অঙ্গীকার বার্তা যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
বলে রাখা ভালো, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক পবিত্র, অবিস্মরণীয় দিন। অবিভক্ত পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা চালু করার দাবিতে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন চলাকালীন তরুণদের যুবকদের উপর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের নির্বিচার গুলিবর্ষণের কথা ভাবলে আজও ক্ষোভ উসকে ওঠে আমবাঙালির হৃদয়ে। আন্দোলন দমন করতে ১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল করেন। সেই মিছিলে পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যান সালাম, রফিক, বরকত, জব্বাররা। প্রাণের ভাষা প্রতিষ্ঠায় তাঁদের এই বলিদান সেদিন তো সফল হয়েছিলই, কালক্রমে সালাম, রফিক, বরকতদের মহান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পায়। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পৃথিবীর যেখানে যত বাঙালি রয়েছেন, সকলে একযোগে আজকের দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করেন। এপার বাংলার মতো এবারও বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে মাতৃভাষা দিবস।
