বঙ্গ বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের আরও দুই সচিবকে ভিনরাজ্যে পাঠিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। অন্য রাজ্যের ভোটে পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে প্রিয়ঙ্কা শিঙ্গলা এবং পি মোহনগান্ধীকে। প্রিয়াঙ্কা অসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের বিশেষ সচিব হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও পি মোহনগান্ধী ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য এবং উদ্যোগ বিভাগের সচিব। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দপ্তরের দায়িত্ব ছিল পি মোহন গান্ধীর কাঁধে। এই দুই সচিবকেই নয়, মঙ্গলবারও পূর্ত দপ্তরের সচিব অন্তরা আচার্য এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের প্রধান সচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকিকেও ভিন রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কমিশন। যদিও এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। ওই দুই আধিকারিকদের বক্তব্য, দু'টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কাজ সারাবছর ধরে চলে। এই অবস্থায় সচিবদের সরিয়ে দিলে কাজে প্রভাব পড়তে পারে।
গত রবিবার ভোট ঘোষণার দিনেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। শুধু তাই নয়, তাঁকে অন্য রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছে কমিশন। এছাড়াও গত কয়েকদিনে পুলিশ প্রশাসনে একাধিক রদবদল করা হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে। বদল করা হয় একাধিক জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককেও। কমিশনের দাবি, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতেই নাকি এহেন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও কমিশনের এহেন পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন শীর্ষ আধিকারিকদের বদল, তা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার প্রার্থী ঘোষণার দিনেও বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে।'' তিনি বলেন, ''আপনাদের অনেক পরিকল্পনা, অনেক চক্রান্ত আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যাদের বদলি করেছেন, সবাই আমাদের অফিসার। বিজেপির জেতার সম্ভাবনা নেই। এসআইআর, গ্যাসের লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হেনস্তা করা! নিজেরা বেলাইন হয়ে যাবেন। এটা বাংলা অস্মিতা রক্ষা, বাঙালি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলা, বাংলার মা-মাটি-মানুষ জিতবে। দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না। আমাদের হাত থেকে ম্যান পাওয়ার কাড়তে পারেননি। ভোট মানুষ দেয়, মনে রাখবেন।” কিন্তু এরপরেও ছবিটা বদল হয়নি! আজ বুধবারও পুলিশ প্রশাসনে একাধিক আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। এমনকী রাজ্যের অফিসারদেরও অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।
