ভোট বড় বালাই। নির্বাচনের মুখে এক একটি পা ফেলতে হবে অতি সাবধানে। আর সেই কাজটাই এই মুহূর্তে করে চলেছে রাজ্য বামফ্রন্ট। দলের 'তরুণ তুর্কি' প্রতীক উর রহমানকে ধরে রাখতে আসরে নামতে হল প্রবীণ বিমান বসুকে। প্রতীকের সঙ্গে কথা বলে তিনি মানভঞ্জনের চেষ্টা করছেন বলে খবর আলিমুদ্দিন সূত্রে। সিপিএমের একাংশ চাইছে, প্রতীক উরের মতো তরতাজা, সংখ্যালঘু, সক্রিয় নেতাকে সামনে রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে। কিন্তু সিপিএমের অন্দরে 'লবি' তা আটকে দিচ্ছে বলেও সূত্রের খবর। এহেন জটিল পরিস্থিতিতে বামেই পা নাকি ডাইনে মোড় ঘুরবেন প্রতীক উর, তা জানতে আরও কিছুটা সময়ের অপেক্ষা।
দলের 'তরুণ তুর্কি' প্রতীক উর রহমানকে ধরে রাখতে আসরে নামতে হল প্রবীণ বিমান বসুকে। প্রতীকের সঙ্গে কথা বলে তিনি মানভঞ্জনের চেষ্টা করছেন বলে খবর আলিমুদ্দিন সূত্রে। সিপিএমের একাংশ চাইছে, প্রতীক উরের মতো তরতাজা, সংখ্যালঘু, সক্রিয় নেতাকে সামনে রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে।
লালপার্টির বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেই ছাব্বিশের ভোটের আগে রাতারাতি রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছেন ডায়মন্ড হারবারের লড়াকু নেতা প্রতীক উর রহমান। সোমবার আচমকাই তাঁর একটি চিঠি প্রকাশ্যে চলে আসে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের দৌলতে। সোশাল মিডিয়ার সেই চিঠিতে লেখা, দলের কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে মানসিক যন্ত্রণায় রয়েছেন প্রতীক উর। তা থেকে মুক্তি পেতে জেলা, রাজ্য কমিটি-সহ দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পার্টিকে বিষয়টি অবগত করলেন। তাঁর ওই চিঠি কীভাবে বাইরে এল, তা নিয়ে পরে 'সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল'-এ প্রতীক উর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, দলকেও এই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেন। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে আরও একটি জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। শোনা যায়, প্রতীক উর তৃণমূলে যোগদান করবেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ঘাসফুল শিবির থেকে লড়বেন।
এসবের পর আর স্থানুবৎ বসে থাকেনি মুজফ্ফর আহমেদ ভবন। সূত্রের খবর, দলের তরুণ কমরেডকে ধরে রাখতে সোজা বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম। প্রতীক উর রহমানের সঙ্গে কথা বলে বিমান বসু জটিলতা কাটানোর চেষ্টা করছেন বলে খবর।
প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর স্নেহধন্য প্রতীক উর জেলা কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, এসএফআই-এর রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কোনও কর্মসূচিতে তাঁকে ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া হয় না।
আসলে ডায়মন্ড হারবারের তরুণ নেতার এহেন 'অভিমান' এবং দলের কার্যকলাপ পছন্দ না হওয়ার কারণ রয়েছে ঢের। প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর স্নেহধন্য প্রতীক উর জেলা কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, এসএফআই-এর রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কোনও কর্মসূচিতে তাঁকে ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া হয় না। যদিও দলের অন্দরে খবর, প্রতীক উরের মতো গ্রামাঞ্চলের সক্রিয়, জনপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মীর ইমেজ ফিকে হওয়া লালের হাল কিছুটা ফেরাতে পারবে বলে আশা। তিনি না থাকলে সেই লাল আরও ফিকে হওয়ার আশঙ্কাতেই তাঁকে ধরে রাখার এই মরিয়া প্রয়াস।
