চালানে পিন আটকানো ১০ বা ২০ টাকার নোট। ওই নোটের নম্বরই আসলে কোড। নাম তার ‘লালা প্যাড’। কয়লা মাফিয়া হিসাবে অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার নামেই নামকরণ হয় এই প্যাডের। এই নোট-সহ প্যাডের ছবি হোয়াটস অ্যাপে কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হত। এই টাকা আটকানো চালান যে ট্রাক চালকের কাছে থাকত, তাঁকে আটকানো হত না। এভাবেই বেআইনি কয়লা খাদান থেকে কয়লা পাচার হত বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের।
নতুন কয়লা পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই দুই কয়লা মাফিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডি জানিয়েছে, অনুপ মাঝি ওরফে লালা এই বেআইনি কয়লা পাচারের চক্রটি চালাত। এই মামলায় সম্প্রতি ইডি ১০০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৩২২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ইডির দাবি, ওই বেআইনি কয়লা খাদান থেকে বিভিন্ন কারখানায় পাচার করা হত। পাচারের জন্য ব্যবহার করা হত ‘লালা প্যাড’। এই ক্ষেত্রে একটি ভুয়ো পরিবহন সংস্থার চালান তৈরি করা হত। ওই ভুয়ো চালানের সঙ্গে ১০ বা ২০ টাকার নোট পিন দিয়ে আটকানো হত। ওই নোট-সহ ভুয়ো চালানের ছবি হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো হত কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে।
কয়লা পাচার চক্র বিপুল টাকা পাচার করত হাওয়ালার মাধ্যমেও। সেই ক্ষেত্রেও ১০ টাকার নোটের নম্বর ব্যবহার করা হত। ওই নম্বর দেখেই হাওয়ালা চক্র জায়গামতো পাঠিয়ে দিত কোটি কোটি টাকা।
ইডির দাবি অনুযায়ী, এই চক্রে জড়িত ছিলেন বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। দাবি করা হয়েছে, ভুয়ো চালানের সঙ্গে পাঠানো হত ট্রাকের নম্বর প্লেটও। সেই ছবির সঙ্গে মিলিয়ে ছেড়ে দেওয়া হত বেআইনি কয়লা-সহ ট্রাক। মামলার তদন্তে শুক্রবারও ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করেছিল ইডি। যদিও তিনি আইনজীবী পাঠিয়ে জানিয়েছেন বিশেষ কারণে আসতে পারছেন না। আগামী দিনে ফের তাঁকে তলব করবে ইডি।
ইডির গোয়েন্দারা জানান, ওই কয়লা পাচার চক্র বিপুল টাকা পাচার করত হাওয়ালার মাধ্যমেও। সেই ক্ষেত্রেও ১০ টাকার নোটের নম্বর ব্যবহার করা হত। ওই নম্বর দেখেই হাওয়ালা চক্র জায়গামতো পাঠিয়ে দিত কোটি কোটি টাকা। এই টাকা পাচারের কোনও প্রমাণও রাখা হত না। এই ব্যাপারে ধৃত কয়লা মাফিয়াদের জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইডি।
