ফলতা বিধানসভা নিয়ে আরও কড়া নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। গোটা বিধানসভাতেই পুনর্নির্বাচনের (West Bengal Repoll) নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেক্ষেত্রে এই বিধানসভার গণনা আগামী ৪ মে বন্ধ রাখা হতে পারে। কমিশন সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও তার আগে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হতে পারে। এদিকে ভোট মিটতেই আজ, শনিবার নতুন করে উত্তপ্ত ফলতার হাসিমনগর। সেখানকার বিজেপি সমর্থকদের হুমকি, মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। যদিও এহেন অভিযোগ মানতে রাজি নয় তৃণমূল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনায় ইতিমধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতা নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি উঠে এসেছে কমিশনের স্ক্রুটিনিতে। ইভিএমে টেপ লাগানোর যেমন অভিযোগ সামনে এসেছে, তেমনই বেশ কিছু জায়গাতে ইভিএমে আতর লাগানো ছিল বলেও দাবি। ইতিমধ্যেই ফলতা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে সিইও দপ্তর। কমিশন সূত্রে খবর, এরপরেই গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসার পরেই এহেন নজিরবিহীন নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে এই বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা আলাদাভাবে চার তারিখের পর হতে পারে বলেও কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
বলে রাখা প্রয়োজন, প্রথম দফার ভোটে দাবি না উঠলেও দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠে। আর এই বুথের সবগুলিই ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। কমিশন সূত্রে খবর, ৩২টি অভিযোগ জমা পড়ে ফলতা থেকে। এরপর রয়েছে ডায়মন্ড হারবার ২৯টি, মগরাহাট থেকে ১৩ ও বজবজ থেকে ৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। এরমধ্যে আজ শনিবার দুই বিধানসভার ১৫টি বুথে পুননির্বাচনের নির্দেশ দেয় কমিশন। এরমধ্যে মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে চলছে ভোটগ্রহণ। দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটদানের নিরিখে এগিয়ে মগরাহাট পশ্চিম। সেখানে ভোট পড়েছে ৫৬.৩৩ শতাংশ। ডায়মন্ড হারবারে ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। মোট দু’জায়গায় ৫৫.৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরমধ্যেই দফায় দফায় রিপোলের দাবিতে উত্তেজনা ছড়াল ফলতা বিধানসভায়।
