ভোটের ফল প্রকাশের সকাল থেকে খাঁ খাঁ করছিল রাস্তাঘাট। অটোর সংখ্যাও ছিল হাতেগোনা। সন্ধে থেকে দু'চারটে রুটে অটো চললেও , বেশিরভাগ অটোরুটই ছিল শুনশান। ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল। বিজেপির হাত ধরে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে অটো ইউনিয়নেও। রাতারাতি রঙ বদলে ফেলল সংগঠনগুলি!
রাজ্যে পালাবদলের পর আজ প্রথম সকাল। গতকালের তুলনায় অটোর সংখ্যা বেড়েছে। তবে অটো রাস্তা নামলেও বদলে ফেলল রঙ! বেহালা, ঠাকুরপুকুর, তারাতলা, রাসবিহারী, কসবা, রুবি---প্রায় সব রুটেই দেখা গেল অটোর মাথায় গেরুয়া ঝান্ডা উড়ছে পতপত করে। উল্টোডাঙা, কাদাপাড়া, বাগবাজার, বারাকপুরেও একই ছবি। সর্বত্রই গেরুয়া নিশান উড়িয়ে অটো নেমেছে রাস্তায়।
মঙ্গলবার সকালে বালিগঞ্জের একটি অটোস্ট্যান্ডে দেখা গেল, অটোচালকরা বিজেপির দলীয় পতাকা বাঁধছেন। গেরুয়া আবির খেলছেন। ডিজে বাজিয়ে রীতিমতো নাচছেন। আইএনটিটিইউসি-র ইউনিয়ন ছেড়ে রাতারাতি গেরুয়াশিবিরে? ওই রুটেরই এক অটোচালকে প্রশ্ন করায় তিনি বললেন,"বিজেপি ইউনিয়ন গড়ার ডাকে আমরা এক হয়েছি।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি অটোচালক সংগঠনের নেতা বলছেন, "প্রতিতা রুটে ধারণ ক্ষমতার বেশি অটো নামিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। রুট পারমিট হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হয়। দিনের পর দিন পুলিশের জরিমানা বাড়ছে। এই ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন সব চালকরা।" তৃণমূলের অটো ইউনিয়নের সদস্য, বেহালার এক অটোচালকের কথায়, "একচেটিয়া দাপুটে মনোভাবের ফল ভুগতে হল সরকারকে।"
প্রসঙ্গত, এলপিজি গ্যাসের দামবৃদ্ধি নিয়ে শহরের রাস্তায় হয়রানির শিকার হয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কটের জেরে গত দু'মাসেই তরতরিয়ে বেড়েছে অটোর ভাড়া। কেন্দ্র-রাজ্যের শাসকদলের মধ্যে দোষারোপ-পালটা দোষারোপের টানাপোড়েন দেখেছে বাংলা। এবার বাংলায় 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের জমানায় নতুন দিনের আশা করছে তিনচাকার মালিকরা।
