রাজ্যে ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ভোটের ফলাফল (West Bengal Assembly Result) প্রকাশ হতে না হতেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নানা প্রান্তে হামলার অভিযোগ। আর প্রত্যেকটি ঘটনায় কাঠগড়ায় বিজেপি। যদিও সে অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির।
টালিগঞ্জে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বসতি উন্নয়ন পর্ষদের অফিসের বাইরে তুমুল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ডিজে বাজিয়ে নাচ করতেও দেখা গিয়েছে হামলাকারীদের।
বেলেঘাটার ব্লক সভাপতি পবিত্র বিশ্বাসের উপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। বেলেঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, রুবিতেও তৃণমূলের অফিসে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে।
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। চুঁয়াপুর কদমতলা বটতলা এলাকা দিয়ে ডিজে বাজিয়ে বিজেপির বিজয় মিছিল ভাকুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডুর বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিপ্লবের বাড়িতে হামলা চালায় বলেই অভিযোগ। তাঁর বাড়ি এবং বাইক ভাঙচুরও করা হয় বলেই অভিযোগ। পেট্রল ঢেলে দেওয়া হয়। কার্যালয়ে হামলা চালানোর ভিডিও ভাইরাল হয়। যদি ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। ঘটনার খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দেয়। আবার নদিয়ার শান্তিপুরের হরিপুর পঞ্চায়েতের নীলকুঠি পাড়ায় বুকে পেসমেকার লাগানো এক তৃণমূল কর্মীকে মারধর করার অভিযোগও ওঠে।
এছাড়া নদিয়ার নবদ্বীপের রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির বিরুদ্ধে উঠেছে কার্যালয় দখল করার অভিযোগ। দু'টি দোকানঘর ভাঙচুরও করা হয়।
আবার ভাঙড়েও একাধিক গ্রামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে আইএসএফের বিরুদ্ধে। তৃণমূল করায় বাড়িতে ঢুকে মারধর এবং জিনিসপত্র নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের পতাকা না খোলার অভিযোগে নিমকুড়িয়া গ্রামে এক আইএসএফ কর্মীর বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালায় ৫০ থেকে ৬০ জন আইএসএফ কর্মী-সমর্থক। ওই বাড়ির বাসিন্দা বৃদ্ধ হাকিম আলি মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা বিবিকে মারধর করা হয়। হাকিমের ছেলের হাতে কামড়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় মাথা ফাটে আয়েশা বিবি এবং তাঁর ছেলে ফরিদ আলি মোল্লা, বউমা রোজিনা বিবিকেও মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় এখনও আইএসএফের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
