ভোট (West Bengal Assembly Election) চাইতে বাংলার ঘরে ঘরে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ‘মা কালী’কে স্মরণ করে মোদির সেই চিঠিতে দুর্নীতি, অপশাসনের কথা উল্লেখ করে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ চিঠিতে কেন্দ্র ‘জনধন যোজনা’, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’, ‘অটল পেনশন যোজনা’, ‘উজ্জ্বলা যোজনা’র মতো প্রকল্প নিয়ে কার্যত বিজ্ঞাপন করেছেন। এবার চিঠির পালটা ভিন্ন বয়ানে অন্য এক চিঠি লিখে প্রচারে নামল শাসক শিবির। চিঠির শিরোনাম - 'বাংলার মানুষের কাছে আমার অকপট স্বীকারোক্তি'। এক্স হ্যান্ডলে তা পোস্ট করে তৃণমূল লিখেছে, 'মোদি যা লিখতে পারেননি'। ছাব্বিশের ভোটের আগে দুই যুযুধান শিবিরের এই চিঠি-যুদ্ধ ঘিরে বেশ সরগরম সোশাল মিডিয়া।
বঙ্গবাসীকে লেখা মোদির চিঠির পালটা মোদিরই বয়ানে তৃণমূলের চিঠি। ছবি: এক্স হ্যান্ডল।
চিঠির শুরুতে মোদির বয়ানে লেখা, 'শুরু করছি আমার বহু প্রতীক্ষিত স্বীকারোক্তি দিয়ে: আমার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি বারবার দাবি করেছিলাম যে, বাংলায় দুর্গাপুজো বন্ধ করা হয়েছে, যা শেষপর্যন্ত মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এখন আর কোনও পথ না থাকায় আমাকে 'জয় মা কালী' স্লোগান দিয়ে লোকদেখানো ভক্তিপ্রদর্শনের অভিনয় করতে হচ্ছে।'
চিঠির ধাপে ধাপে এমন অনেক কিছুই রয়েছে, যা বাংলার ক্ষেত্রে বাস্তব। অথচ সেসব কখনও মোদি সরকার স্বীকার করে না। বাংলাকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে তৃণমূলের বয়ানে মোদির লেখা - 'বাংলার উন্নয়নের সঙ্গে তাল রাখতে না পেরে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল আটকে দিয়েছি।' চিঠিতে 'বঙ্কিমদা' থেকে স্বামী বিবেকানন্দকে 'অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট' এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গাত্রবর্ণ থেকে 'জনগণমন' ব্রিটিশদের স্বাগত জানানোর গান থেকে বাঙালিকে 'ঘুষপেটিয়া' তকমা দেওয়া নিয়ে যে যে অপপ্রচার চালিয়েছে বিজেপি, তা উল্লেখ রয়েছে। এসব কথাই আসলে মোদির বলার ছিল কিন্তু বলতে পারেননি বলে দাবি তৃণমূলের।
মোদির পালটা তৃণমূলের এই চিঠি দেখে রাজনৈতিক মহলের মত, শাসকদলের তরফে এই প্রচার অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত। আসলে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের ক্রমশ বঞ্চনা, উদাসীনতা এবং অপমানের পর ভোটের মুখে বঙ্গবাসীর মন পেতে খোদ প্রধানমন্ত্রী 'দরদী' পত্র যে নিছকই নির্বাচনী-অঙ্ক, তা বুঝতে বাকি নেই। আর তার পালটা প্রচারে যথার্থভাবেই তৃণমূল লিখে ফেলেছে আরেকটি চিঠি, প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি সম্বলিত। আর বঙ্গবাসীও দুই চিঠির ফারাক বেশ বুঝতে পারছে।
